বিএমএ’র নির্বাচনকে ঘিরে যশোরে চিকিৎসকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ॥ প্রচারণায় শীর্ষে স্বাচিপ, ঢিমেতালে ড্যাব

BMA nirbachon
এস হাসমী সাজু ॥
বিএমএ যশোর জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে জেলার চিকিৎসকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জয় নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা ছুটছেন শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে। তবে শুধু প্রার্থী নিজেই না, প্যানেল জেতাতেই তৎপর নেতারা। প্রচার-প্রচারণায় যশোর স্বাচিপ মাঠে নামলেও ড্যাব নামবে ঈদের পর। অনেকে বলছেন সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে হওয়ায় বিএমএ’র নির্বাচনে নড়নচড়ন নেই ড্যাবের। তারপরও এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছে বেশ আগ্রহ। এদিকে পূর্ণ প্যানেলে প্রার্থীও দেয়নি বিএনপি পন্থী সংগঠন ড্যাব। নানা অজুহাতে নির্বাচন বানচাল করার অপতৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর সংগঠনটি মাত্র ৬টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। ড্যাবের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক ও নড়বড়ে অবস্থার মধ্যে থাকায় এই দৈন্যতা বলে মন্তব্য অনেকের। আবার কারোমতে আ’লীগের শাসনামলে বিএমএ’র নির্বাচনে জিতলেও কোন লাভ হবে না ভেবেই সংগঠনটির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই।
জানা যায়, নানা তালবাহনা আর নাটকীয়তার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নির্বাচন পিছিয়ে ৩ আগস্ট নির্ধারণ করে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয় ড্যাব ও বিএমএ’র নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে। এরমধ্যে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের ডাঃ আবু হাসান লাল্টু ও ইমদাদুল হক পরিষদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দাবিদার চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের একেএম কামরুল ইসলাম বেনু ও ডাঃ আবুল বাসার পরিষদ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে ড্যাব ১৭টি পদে অংশগ্রহণ না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বাচিপের প্রার্থীরা জয়ের পথে রয়েছেন। বাকি ৬টি পদে উভয় দলের হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে একাধিক চিকিৎসক দাবি করেছেন। ৬টি পদের মধ্যে রয়েছে ৩টি সম্পাদকীয় ও ৩টি কার্যকরী পরিষদ সদস্য। ভোটের এখনো বাকি প্রায় পক্ষকাল থাকলেও প্রচারণা থেমে নেই স্বাচিপের। তবে এদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে ড্যাব। ড্যাব নেতা ডাঃ আবু হাসান লাল্টু জানিয়েছেন ঈদের পর প্রচারণায় নামবে তারা কিন্তু ঈদের পর প্রচারণার সময় থাকবে মাত্র ২/৩ দিন। এরমধ্যে কিভাবে এতবড় একটি সংগঠনের প্রচার-প্রচারণা শেষ করবে তা নিয়ে রয়েছে নানা কথা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে হওয়ার কারণে পূর্ণ প্যানেল দেয়নি ড্যাব। আর ৬টি পদে প্রার্থী থাকলেও তা নিয়ে মাথা-ব্যাথা নেই ড্যাবের বর্তমান নেতৃবৃন্দের। জিতলে বলবেন এক রকম, হারলে তুলবেন ভোট কারচুপির অভিযোগ। বিএনপিপন্থী যতো সংগঠন আছে তারা একই পথে হাঁটছেন বলেও অভিযোগ অনেকের। যদিও যশোর ড্যাবের এনিয়ে খুব বেশি মাথা-ব্যাথা নেই। দল ক্ষমতায় না থাকলে ড্যাবের নেতা নির্বাচিত হয়ে কোন লাভ নেই এমন মানষিকতা সংগঠনটির অনেকের। যেকারণে আ’লীগ ক্ষমতায় থাকতে তারা এই নির্বাচনে অর্থ ও শ্রম কোনকিছুই ব্যয় করতে আগ্রহী না বলে সূত্রের দাবি। এরআগে বিএনপি ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ড্যাবের নেতারা বদলী, চাকুরি ও হয়রাণীমূলক বদলি বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে গেছেন। হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের অর্থ লুট-পাট করেও কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ রয়েছে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে। তখন প্রতিপক্ষ স্বাচিপ অনুসারী চিকিৎসকরা নানাভাবে হয়রাণীর শিকার হয়েছেন। চাকুরিচ্যুৎ হওয়ার নজিরও সৃষ্টি হয় তাদের সময়। তবে আ’লীগপন্থী সংগঠন স্বাচিপ কখনোই এধরণের হয়রাণী বা চাকুরিচ্যুৎ করে কোনপন্থী চিকিৎসকদের রুটি-রুজির ওপর আঘাত আনেনি। এটি হয়েছে স্বাচিপের বড় পুঁজি। যেকারণে অনেকে ড্যাব ছেড়ে ঝুঁকেছেন স্বাচিপের দিকে। উল্লেখ্য গত ২২ জুন ড্যাব ও স্বাচিপের বিভিন্ন আপত্তির কারণে বিএমএ’র নির্বাচন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ২৮ জুনের পরিবর্তে ৩ আগস্ট ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পর দু’পক্ষ তা মেনে নিয়ে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে। এ ব্যাপারে স্বাচিপের সভাপতি প্রার্থী ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু সমাজের কথাকে বলেন, বিএমএ একটি সার্বজনিন সংগঠন। এই সংগঠন চিকিৎসকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য লড়াই করে। ড্যাব দল ক্ষমতায় আসলে লুটেপুটে খায়। যেকারনে দেশজুড়ে তাদের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

শেয়ার