প্রেমের সমাধি টেনে না ফেরার দেশে যশোরের মেয়ে লাবনী ॥ স্বামী দেবরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা ॥ ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কলেজ ছেড়ে প্রেমের টানে সংসার পেতেছিলেন যশোরের মেয়ে লাবনী খাতুন। কিন্তু টেকেনি সংসার। স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পৈশাচিক নির্যাতন ছিল তার প্রতিদিনের পাওনা। শেষ পর্যন্ত দেবর তাকে দেখিয়েছিল ৩ লাখ টাকায় প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকের চাকুরির প্রলোভন। বাপের বাড়ি থেকে টাকাও নিয়ে যান লাবনী। দেন দেবরের হাতে কিন্তু সেই টাকা প্রাণ নিলো এই নববধূ লাবনীর। পরিকল্পিতভাবে তাকে টেষ্টি সেলাইন আর খাদ্য খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে হত্যার একমাস পর আদালতে মামলা করেছেন নিহতের মা সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী জুলেখা বেগম। বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল যশোর আদালতে নিহতের স্বামী-দেবসহ ৭জনকে অভিযুক্ত করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে কোতয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে। আসামি করা হয়েছে নিহত লাবনীর স্বামী মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুরের মনিরুজ্জামান, দেবর রবিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম এবং শ্বশুর আককার মোল্যা, শ্বাশুড়ি মোনজিলা বেগম ও রবিউলের স্ত্রী ইয়াছমিন খাতুন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানাগেছে, কলেজ ছাত্রী হামিদপুর গ্রামের লাবনী খাতুনের সাথে মনিরুজ্জামানের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মনিরুজ্জামানের পরিবার লাবনীকে বধূ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। শত নির্যাতন সহ্য করেও লাবনী তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে ঘরসংসার শুরু করে। এরই মধ্যে প্রাইমারী স্কুলে লাবনীকে চাকরি দেয়ার নাম করে তার পিতার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লাবণী খাতুন ৩ লাখ টাকা এনে তার দেবর রবিউল ইসলামকে দেয়। রবিউল চাকরি নিয়ে শুরু করে তালবাহনা। এক পর্যায়ে টাকা ফেরৎ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে লাবনী। গত ১৮ জুন সকালে লাবনীকে টাকা ফেরত নিতে দেবর রবিউল তার কর্মস্থল শামসুল আল-আমিন ফার্মাসিউটিক্যাল ডিপো অফিসে যেতে বলেন। সরল বিশ্বাসে লাবনী টাকা আনতে গেলে রবিউল ও তার ভাই শফিকুল লাবণীকে টেস্টি স্যালাইন ও বেশকিছু লোভনীয় নাস্তা খাইয়ে আপ্যায়ন করে। এতেই অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় । শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে যান নববধূ লাবনী। প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রচারে লাবনীর বাপের বাড়ি পরিবার বিশ্বাস করে নিলেও পরে খোজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন হত্যার লৌমহর্ষক কাহিনী। এ ঘটনায় নিহতের মা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দিলে বিচারক মারুফ আহমেদ তা গ্রহণ করে এজাহার হিসাবে রেকর্ড করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দেন।

শেয়ার