কেশবপুরে ঘের বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ॥ বাড়ি-ঘর ভাংচুর দোকানে আগুন আহত ১০

shongghorso
নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর॥ কেশবপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর মৎস্যচাষ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এই মৎস্য ঘেরটির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দির্ঘদিন ধরে চলে আসছিল দ্বন্দ্ব। অনেক শালিস দরবার করেও দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনেন আর কাগজপত্র দেখে সমঝোতার নির্দেশনা দিয়ে চলে আসেন। কিন্তু মন্ত্রী চলে আসার পরই উভয় পক্ষ বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অনন্ত: ১০ জন গুরুতর জখম হন। উত্তেজিতরা একটি বাড়ি ভাংচুর করে এবং দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জানাযায়, বৃহষ্পতিবার সকালে জনপ্রাশন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি বিষ্ণুপুর মৎস্যচাষ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ঈদগাহের মাঠে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি কল্পে মিমাংশা বৈঠকে মিলিত হন। উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর বিলের ১২০ বিঘা জমির এই ঘের নিয়ে কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিকের সাথে খুলনার জনৈক হাজী রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও ঘেরের ম্যানেজার আমিনুলের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় অবশেষে স্থানীয় এমপি জনপ্রাশন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক পর্যন্ত গড়ায়। প্রতিমন্ত্রী সরকারি সফরসুচি মোতাবেক বিষ্ণুপুর মৎস্যচাষ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তাঁর উপস্থিতিতে স্থানীয় ঈদগাহের মাঠে এক মিমাংশা বৈঠকে মিলিত হন। এসময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মনজুর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদ মোমেন মজুমদার, থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ রানা, ভইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক চম্পা ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেনের সঞ্চালনায় বৈঠকে ঐ ঘেরের ১২০ বিঘা জমির মধ্যে ৬ বিঘা খাস। অবশিষ্ট ১১৪ বিঘা জমির ২৬ জন জমির মালিক তাদের ৭৪ বিঘা জমি কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিকের পক্ষে ডিট করে দেয়। অবশিষ্ট জমি বিষ্ণুপুর গ্রামের খুলনার হাজী রুহুল আমিনের পক্ষে আমিনুল ইসলামের নামে ডিট করে দেয়। যা নিয়ে বিরোধ তুমুল আকার ধারন করে। বৈঠকে শুনানী শেষ করে মন্ত্রী সমঝোতায় পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে কথাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের ভিতর সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে উভয় গ্র“পের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, বিষ্ণুপুর গ্রামের আমিনুল গাজী (২৭), হোসেন গাজী (৫৫), রাজ্জাক গাজী, নওশের সরদার ,আতিয়ার সরদার, মশিয়ার সরদার ,মোহাম্মদ ্আলী সানা ও চিংড়া গ্রামের আতিয়ার রহমান (৬২) সহ ১০ জন আহত হন। আহতরা স্থানীয় চিংড়া বাজারের বিভিন্ন চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। সংঘর্ষের জের ধরে বিকেলে বিষ্ণুপুর গ্রামের নওয়াব আলী সরদার, মিলন সরদার ও আমিনুল সরদারের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে এবং বিলের মাছের ঘেরের ৩টি টোঙ ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার