ক্রেতা সমাগম বাড়ছে ফুটপাতে ॥ কম দামে মিলছে কামিজ থ্রি পিচ শার্ট জিন্স প্যান্টসহ হরেক নামে রঙ-বেরঙের পোশাক

footpath
আরমান সজল ॥
ফুটপাতে কম দামে মিলছে পাখি ড্রেস, লুঙ্গি, মাছরাঙ্গা, শর্ট কামিজ, থ্রিপিচ, শার্ট, জিন্সের প্যান্টসহ হরেক রকমের ও নানা ডিজাইনের চোখ ধাঁধানো তৈরি পোশাক। তরুণ-তরুণী ও শিশুসহ সব বয়সী মানুষের চাহিদা মেটাতে ফুটপাতে এসব পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। ‘একদর’ মানে ক্রেতা ঠকানো ! ক্রেতাদের ভূগোল পড়িয়ে দোকানীর প্রতারণার ব্যবসা। বছর কয়েক আগেও এই ‘কালেক্টরেট মার্কেট’ ছিল যশোরাঞ্চলের কম আয়ের মানুষের পোশাক কেনার একমাত্র ঠিকানা কিন্তু সিন্ডিকেট গড়ে একদরের নামে প্রতারণা ক্রেতার আস্থা হারিয়েছে মার্কেটটির পোশাক ব্যবসায়ীরা। যে কারণে ঈদ আসলেই ক্রেতার ভীঁড় জমতে শুরু করে ফুটপাতে। এবারও তার বত্যয় ঘটছে না। কালেক্টরেট মার্কেটের গার্মেন্টসগুলো ঈদকে সামনে করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসলেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অধিকাংশ ক্রেতা। যে কারণে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই ফুটপাতে জমছে চোখে পড়ার মতো ক্রেতা সমাগম। ধুমচে বেচাকেনা শুরু হওয়ায় বেজায় খুশিতে আছেন দিন আনা দিন খাওয়া ফুটপাতের দোকানীরা সূর্যের আলো হয়েছে তাদের একমাত্র ভরসা। যদিও কিছু দোকানী আশ-পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করে তার টেনে দু’একটি সাধারণ বাল্ব জ্বালিয়ে সন্ধ্যার পরও বেচাকেনা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে যশোর শহরের মুজিব সড়ক, এইচএম সড়ক, কাপুড়িয়াপট্টি রোড, দড়াটানা ভৈরব চত্বর ও পুরাতন পৌরসভা মার্কেটসহ জেসটাওয়ার সংলগ্ন সড়কের ধারে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা টোঙ দোকান, চৌকিখাট ও কেউ আবার ভ্যানে ফেরি করে বিক্রি করছেন নানা রং বে-রঙের নজরকাড়া তৈরি পোশাক। নি¤œ আয়ের মানুষও ঝুঁকছেন তাদের দিকে। শহরের অভিজাত শপিংমল ও বিপণীগুলোতে পোশাকের দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও ফুটপাতে ছুটছেন। এসব দোকানে একশ টাকা দামেরও পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আছে হাজার বারশ টাকা দামের তরুণ-তরুনীর তৈরি পোশাক। কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা জানান, দিনে সূর্য আর রাতে চন্দ্রের বিনামূল্যের আলো তাদের সৌন্দর্য। কর্মচারীর বেতন কড়ি গুনতে হয় না। দিতে হয় না দোকান ভাড়া। কম পুঁজিতে তারা ব্যবসা করে সংসার চালান। যদিও বেশকিছু এলাকায় ফুটপাতের দোকানীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মনিহার সিনেমা হল সংলগ্ন গড়েওঠা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দিতে হয় মাস্তানী চাঁদা। পৌরসভার এক শ্রেণির কর্মচারী বিদ্যুতের বিল বাবদ আদায় করে নির্দিষ্ট অংকের টাকা। তবে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় হুমরো-চুমরো শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি। দোকানীরা জানিয়েছেন এবার তারা পাখি ড্রেস, লুঙ্গি, মাছরাঙ্গা, শর্ট কামিজ, থ্রিপিচ, শার্ট, জিন্সের প্যান্ট, গেঞ্জি, শাড়ি, লুঙ্গি, গামছাসহ সকল ধরণের পোশাক আমদানী করেছেন। ফুটপাতের বিক্রেতা ইয়াছিন আলী সমাজের কথাকে জানান, ক্রেতার সমাগম আর বেচা বিক্রি বেশ ভালো বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে ষষ্টিতলাপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ফুটপাতে কেনাকাটা করে শান্তি আছে। কম দামে ভালো পোশাক মিলছে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদকে ঘিরে ফুটপাতের পোশাক কেনাবেচা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

শেয়ার