বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ: দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

PM
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহ’ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সকালে সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কাজটায় ‘ডিলে’ হয়েছে। যথেষ্ট ‘লেট’ হয়েছে। এটা দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। আগেই এ কাজটা করে ফেলা উচিত ছিল।”
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া শুরু করে। এর অংশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সব ঠিক থাকলে ২০১৭ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ পৃথিবীর কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।
নির্দিষ্ট সময়ে এটি উৎক্ষেপণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেয়া হয়েছে জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এইসব কাজ একটু সাহস নিয়ে করা উচিত ছিল।ৃ এটা আপনাদের পুশ করতে হবে।”
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করবেন। মনে রাখবেন সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। যার মধ্যে ছয় মাস চলে গেছে, সাত মাস চলছে। আর বাকি আছে চার বছর পাঁচ মাস। এ সময়ের মধ্যে আমাদের সব কাজ শেষ করতে হবে।”
তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার মহাখালী, রাজশাহী, চট্রগ্রাম ও বরিশালে আইসিটি ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি আইটি ভিলেজ বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
“আগে গ্রামের মানুষ ভাত-কাপড় চাইতো। সত্যি কথা বলতে কি এখন তারা চায় বিদ্যুৎ। তারা বলে আমাদের বিদ্যুৎ দেন। ইন্টারনেটের গতি কম কেন এ প্রশ্নেরও জবাব দিতে হয়।
“মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ আর্থিকভাবে সফলতার মুখ দেখছে। মানুষের সঞ্চয় বাড়ছে। এখন আর সুদের জন্য ঘরের চাল টেনে নিচ্ছে না কেউ।”
বিগত বিএনপির সরকারের কারণেই সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার আরো আগে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সমুদ্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আমরা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত অনেকগুলো কাজ এগিয়ে রেখে যাই। আমাদের আশা ছিল পরবর্তীতে যে ক্ষমতায় আসবে তারা কাজ এগিয়ে নেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের; তারা (বিএনপি) কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
“তারা (বিএনপি) সময়মতো পদক্ষেপ নিলে মহীসোপানে যে নির্দিষ্ট জায়গা, আমাদের অধিকার- সেটা সুনির্দিষ্ট হয়ে যেত এ রায়ের সাথে সাথে”, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিটি কাজের ‘একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সে সময়ে তারা (বিগত বিএনপি সরকার) সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি বলে আমরা পিছিয়ে গেছি। আসলে তাদের এ নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনাই ছিলো না।”
১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করে যাওয়া সমুদ্রসীমা আইনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, ২১ বছর তারা ক্ষমতায় ছিল, দুই দুইটা মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতায় ছিল- তারা কেউ কিন্তু এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
৪৮ মিনিটের বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সফলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকেই প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সেবা পাচ্ছেন।
সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি করে বাংলাদেশ এখন বছরে ১২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করছে বলেও জানান তিনি।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের সময় এ দপ্তরের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীও বক্তব্য দেন।
মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সচিব আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার