সারাদেশের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে কালীগঞ্জের কাঁঠাল

Jack Fruite
নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ আকারে বড়, পুষ্টি গুণও বেশি, জাতীয় ফল কাঁঠাল। কৃষক পরিবারে কাঁঠালের কোন অংশই অপ্রয়োজনীয় নয়। পাকা কাঁঠালের রুয়া খেতে সুস্বাদু, বাকল গাবাদি পশুর খাদ্য, বীজ ও কাঁচা কাঁঠাল তরকারী হিসেবে খাওয়া হয়। তাই কাঁঠালের চাহিদা সব পরিবারেই রয়েছে। আর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মাটি এ ফল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। যা প্রতি মৌসুমে সারাদেশের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।
একাধিক কাঁঠাল চাষী জানান, গ্রামাঞ্চালের প্রতিটি কৃষক পরিবারে বসতবাড়ির আশপাশে কম বেশি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। একটি বড় গাছ হতে শতাধিক কাঁঠাল পাওয়া যায়। কৃষকেরা মৌসুমে তারা নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিগুলো বিক্রির মাধ্যমে পয়সা আয় করে থাকেন। কালীগঞ্জ উপজেলার কামালহাট গ্রামের কৃষক আব্দুল হক জানান, তার নিজের শতাধিক কাঁঠাল গাছ রয়েছে। প্রতিবছর তিনি ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি করে থাকেন। তিনি জানান, প্রতি মৌসুমে এ এলাকার উৎপাদিত কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা কিনে নিয়ে যান। তিনি আরো জানান, পাইকারী বাজারের চেয়ে স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করতে পারলে দ্বিগুন পয়সা পাওয়া যায়। কিন্ত কাঁঠাল পাকা শুরু করলে ঘরে অথবা গাছে রেখে দেওয়ারও সুযোগ নেই। ফলে পাইকারী ব্যবসায়ীরা যে দামই বলুক না কেন চাষীদের বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে লাভ করে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে কালীগঞ্জ শহরের কাঁঠাল বাজারে গেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদালপুর থেকে আসা কাঁঠাল বিক্রেতা লিয়াকত শেখ জানান, নিজের গাছের ১৪৫ টি কাঁঠাল বাজারে বিক্রি করতে এনেছেন। মাঝারি গোছের কাঁঠাল প্রতিটি ৪২ টাকায় বিক্রি করেছেন। উপজেলার একাধিক স্থানীয় কাঁঠাল ব্যবসায়ী জানান, ১৭ বছর ধরে কাঁঠালের মৌসুমে গ্রাম গ্রাম ঘুরে কাঁঠাল কিনে শুক্র ও সোমবার কালীগঞ্জের কাঁঠালের বাজারে বাইরে থেকে আসা পাইকারদের নিকট বিক্রি করে থাকেন। তারমত অনেকে প্রতি মৌসুমে এভাবে কাঁঠালের ব্যবসা করে থাকেন। পটুয়াখালী থেকে কালীগঞ্জ শহরে কাঁঠাল কিনতে আসা ব্যাপারী জসিম উদ্দীন জানান, আজ থেকে ২০ বছর আগে থেকে প্রতি বছর কাঁঠালের মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে কাঁঠাল কিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, বরিশাল, বাউফল, শরিয়তপুর , পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন থাকেন। এভাবে তারা ব্যবসা করেন বছরে কমপক্ষে ৩ মাস। কালীগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এ উপজেলাতে কতটুকু জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে তার কোন হিসাব তাদের কাছে নেই। কেননা গ্রামাঞ্চালের বন বাদাড়ে বসতবাড়ির আশপাশে যেখানে সেখানে কাঁঠাল গাছ দেখা যায়। তবে কেউ কেউ পতিত জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এখন কাঁঠাল চাষ শুরু করেছেন। তিনি আরো জানান, কাঁঠাল গাছ তেমন একটা পানি সহ্য করতে পারে না। এ অঞ্চলের স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় স্থায়ী কোন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। যে কারনে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপাদন হয়ে থাকে।

শেয়ার