যশোরে কাচামাল ব্যবসায়ীকে বিষ খাইয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা ॥ স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে স্ত্রীর পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় আমিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহতের স্ত্রী সবিরন নেছাকে (৪০) আটক করেছে। বুধবার রাতে সদর উপজেলার সাড়াপোল গ্রামের এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিরন নেছা ও তার কথিত প্রেমিক মনিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে তৈয়ব আলীকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
নিহতের বোন আছিয়া খাতুন জানিয়েছেন, তার ভাই আমিরুল ইসলাম সবিরন নেছাকে বিয়ের পর তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ের জম্ম হয়। কিন্তু সবিরন নেছা বিভিন্ন পর পুরুষের সাথে পরোকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এনিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘ দিন ধরে অশান্তির সৃষ্টি হয়। তৈয়ব আলীর সাথে তাকে একাধিকবার অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ধরা হয়। গত ১৫দিন আগে আমিরুল ইসলাম তার স্ত্রী সবিরন নেছাকে তৈয়ব আলীর সাথে কথাবার্তা এবং বাড়িতে আসা যাওয়া করতে নিষেধ করে। এতে সবিরন নেছা ও তৈয়ব আলী দু’জনেই আমিরুল ইসলামের উপর ক্ষীপ্ত হয়। তাকে হত্যা করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করতে থাকে। বুধবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা স্বামী-স্ত্রী ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত একটার দিকে তৈয়ব আলী ওই বাড়িতে এসে সবিরনকে ডেকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি দু’জনে মিলে আমিরুলকে জোর করে বিষাক্ত পাউডার খাওয়ায়। এ সময় আমিরুল ছটফাট করতে থাকলে সবিরন তার স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর তৈয়ব আলী পালিয়ে চলে যায়। সবিরন নাটকীয়ভাবে কান্নাকাটি করতে থাকে। কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী সবিরন নেছাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। চাঁচড়া ইউপি মেম্বর মঞ্জুর-এ-মাহবুব জানান, মনিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর সাথে সবিরনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ৫/৬ মাস আগে তারা পালিয়ে বিয়েও করে। পরে এলাকার লোকজন মিমাংসা করে দেয়। এলাকাবাসির ধারণা পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সবিরন তার স্বামী অমিরুলকে হত্যা করেছে। তবে আটক সবিরন পুলিশকে জানিয়েছে, তার স্বামী অসুস্থ ছিল। ওইদিন রাতে হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তার মুখদিয়ে রক্ত বের হয়ে মারা যায়। এ ব্যাপারে নিহতের বোন আছিয়া খাতুন থানায় মামলা করেছেন।

শেয়ার