বিএনপির জোটে ছোটদলগুলোতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, বাড়ছে টানাপড়েন

jot
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নানা ইস্যুতে ২০ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে বিএনপির। জোটগত কর্মসূচিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শরিকদের মতামত না নেওয়া, বিএনপির কর্মসূচিগুলোর ছোট নেতা বা কর্মচারীদের দিয়ে শরিকদের দাওয়াত দেওয়া এবং শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের অভাবে এই টানাপড়েন ক্রমেই তীব্র রূপ নিচ্ছে। এমনকি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অভিযোগ উঠেছে ছোট দলগুলোর তরফে।

এমন পরিস্থিতিতে তাই ছোট ছোট দল নিয়ে বিএনপির জোট আপাত দৃষ্টিতে বাড়লেও পুরনো শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমাবনতি ঘটছে জোটনেতা বিএনপির।

জোট শরিকদের অভিযোগ, বিএনপি প্রধান ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বললেও কি ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে, কবে নাগাদ কর্মসূচি শুরু হবে তা খোলাসা করা হয়নি। এমনকি ফরমালি বিষয়টি কোন শরিককেই জানায়নি বিএনপি।

বিএনপির এমন আচরণে সমমনা দলগুলোও বেজায় ক্ষুব্ধ।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি এক ইফতার পার্টিতে জোট একতাবদ্ধ আছে বলে দাবি করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ২ জুলাই রাজনীতিকদের সম্মানে খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিলে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীকে দাওয়াত দেয়া হয় বিএনপি অফিসের কর্মচারী দিয়ে।

এভাবে দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি এই দুই প্রবীণ নেতা ভালভাবে নেননি। ক্ষুব্ধ বি চৌধুরী ও আব্দুল কাদের সিদ্দিকী নিজ নিজ দলের সেক্রেটারি পাঠিয়ে দায়সারাভাবে আমন্ত্রণ রক্ষা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে যতটুকু সম্মান দেখানো উচিত ততটুকুই দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে লম্বা বক্তৃতার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কোনো সিনিয়র নেতা জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতের সঙ্গেও রাখছেন না কোন প্রকার যোগাযোগ।

জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার কোনো অনুষ্ঠানে বা জোটের সভা ডাকলে শরিক দলের কাউকে ফোনও দেন না তিনি (ফখরুল)। দলের সিনিয়র কোনো নেতাকে দিয়েও করানো হয় না এ কাজ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে জসিম, শাইরুল কবির খান অথবা শামসুদ্দিন দিদার প্রোগ্রামের বিষয়টি জানিয়ে দেন জোট নেতাদের। বিএনপি অফিসের কর্মচারী দিয়ে এভাবে দাওয়াত বা সভা ডাকাকে জোট নেতারা ভালভাবে নিচ্ছেন না।

এছাড়া বিভিন্ন সময় জোটের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। সব সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া একা। এ সিদ্ধান্তের খবর শরিক দলের নেতারা তো দূরে থাক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও জানেন অনেক পরে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর জামায়াতের একজন সহকারী সেক্রেটারি বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক আগের জায়গায় নেই তা না। তবে কৌশলগত কারণেই এখন তারা (বিএনপি) নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

জোটশরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বাংলানিউজকে বলেন, গুলশান অফিসের কর্মচারীর মাধ্যমেই সাধারণত আমরা দাওয়াত পেয়ে থাকি। এ বিষয়টি শোভন না অশোভন তা ভেবে দেখিনি।

তবে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, জোট শরিকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার খবরটি মোটেই ঠিক না। জোটে তাদের গুরুত্ব আগেও যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে। সর্ম্পকও ভালো।

যদিও মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমর্থন নেই জোটের আর এক শরিকদল ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মেবিনের বক্তব্যে।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, অভিযোগ নয়, বড় দল হিসাবে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া অনেক সময় এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

গুলশান অফিস থেকেই জোটের বৈঠকের দাওয়াত দেয়া হয় জানান তিনি।

শেয়ার