চৌগাছায় ৩০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ে ঘাপলা॥ নেপথ্যে উপজেলা প্রকৌশলী

tender baji
নিজস্ব প্রতিবেদক, চৌগাছা॥ চৌগাছায় একটি স্কুলের দুটি কক্ষ নির্মাণের ৩০ লাখ টাকা কাজের টেন্ডার নিয়ে ঘাপলাবাজি হয়েছে। ৩ লাখ টাকা নিয়ে কাজটি পাইয়ে দেয়া হয়েছে মেসার্স লুৎফর রহমান ট্রেডার্স নামে কোটচাঁদপুরের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এরফলে কাজটিতে পুকুর চুরির আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল। এই টেন্ডারবাজির সাথে উপজেলা প্রকৌশলী তফিকুল ইসলাম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তার মধ্যস্থতায় টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের উপরে ২টি কক্ষ নির্মাণের জন্য চলতি বছরের প্রথম দিকে সরকার ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সে সময় উপজেলা প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বিনা টেন্ডারে আসিফ এন্টারপ্রাইজকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তার সেই ষড়যন্ত্র মাঝপথে মারা পড়ে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভাগ আবার ওই কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করে। কিন্তু এবারও উপজেলা প্রকৌশলী তফিকুল ইসলাম নাম মাত্র টেন্ডার আহবান করেন। এই টেন্ডারে মাত্র ৩ জন ঠিকাদার সিডিউল কেনেন।। তারা হল মেসার্স লুৎফর রহমান ট্রেডার্স কোটচাঁদপুর ওরফে চৌগাছার আব্দুল্লাহ, জাকা উল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স চুয়াডাঙ্গা, ওরফে চৌগাছার রবিউল ইসলাম এবং আসিফ এন্টারপ্রাইজ ওরফে চৌগাছার মঈনুল হাসান। এদের মধ্যে প্রকৃতভাবে কাজটি পায় মেসার্স লুৎফর রহমান ট্রেডার্স কোটচাঁদপুর। কিন্তু প্রশ্ন হলো ৩০ লাখ টাকার এই টেন্ডারে মাত্র ৩ জন ঠিকাদার সিডিউল খরিদ করলেন কেন ? নেপথ্য রহস্য ৩ লাখ টাকার সমঝোতা। সরকারী নিয়মের শতকরা ৫টাকা হ্রাস করে সিডিউল ফেলা হয়। সুভংকরে ফাঁকী দিয়ে গড়ে শতকরা ১০ টাকা সিডিউল ড্রপিং বা ওয়ার্ক পারমিটের পর চুক্তিনুযায়ী বর্ধিত টাকা ঠিকাদাররা ভাগ করে নেয়। এ হিসেবে মতে ঠিকাদাররা ৩০ লাখ টাকায় টেন্ডারে বর্ধিত প্রায় ৩ লাখ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে সরকার প্রতিবছর এই উপজেলায় লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিন্মমানের রড, সিমেন্ট,বালি, পাথর ইত্যাদি দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলন করে নেয়ার কাজে সহযোগীতা করেন উপজেলা প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী তফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। নিয়ম মেনেই টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শেয়ার