মহম্মদপুরে রোগীর স্বজনের সাথে দুর্ব্যবহার ॥ ডা. রবিউলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও

doctor
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রবিউল ইসলামের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে মানুষ। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোমবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অভ্যন্তরে তার অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। প্রাইভেট ক্লিনিকে বসে রোগী দেখার সময় নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির বাক-বিতন্ডাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
উপজেলা সদরের রায়পাশা গ্রামের মুরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ মোল্যার ছেলে নুরুজ্জামান জানান, হাসপাতাল রোডের শিকদার ফার্মেসীতে প্রাইভেট প্রাকটিস করছিলেন ডা. রবিউল ইসলাম। তিনি মা ছবেজান নেছাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তার না পেয়ে শিকদার ফার্মেসীতে এসে দেখতে পান ডা. রবিউল রোগী দেখছেন। তিনিও তার মাকে দেখাবেন বলে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর ওষুধ কোম্পানী এশিয়াটিক ফার্মাার রিপ্রেজেন্টিটিভ সৈয়দ কেরামত আলী তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ডা. রবিউল তড়িঘড়ি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেম্বারে চলে যান। তার সাথে ওষুধ কোম্পানীর ওই প্রতিনিধিও যান। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রিপ্রেজেন্টিটিভ কেরামত আলীকে লাঞ্ছিত করে। এতে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন ডা. রবিউল ইসলাম। তিনি কেরামত আলীকে প্রাধান্য দিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর উপর চড়াও হয়ে বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বহি:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল অভ্যন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ডাক্তার রবিউল ইসলামের নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো হাসপাতাল অভ্যন্তরে ফিরে আসে। এ সময় সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে ডা. রবিউলের নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ড তুলে ধরে বিক্ষুব্ধকারীরা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের অপসারণ দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশও হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ বিষয়ে ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার সাথে কিছু ঘটেনি। এক রিপ্রেজেন্টিটিভের সাথে আমার অফিসে স্থানীয়দের ঝামেলা হয়। রোগিদের আহ্বানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আমি শুধু পুলিশে ফোন করেছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি খুলনায় একটি প্রশিক্ষণে আছি। ঘটনাটি শুনেছি। ফিরে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ডা. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে তার বাসার কাজের মেয়ে ও মা’কে মারধোরের অভিযোগ ছাড়াও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে স্থানীয় এক মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেরও অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার