অযত্ন – অবহেলায় গৌরবের পালবাড়ি ভাস্কর্য ও মনিহার বিজয়স্তম্ভ

mutu
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ, বিজয়ের গৌরব ও স্বজন হারানোর বেদনার স্মৃতি নিয়ে যশোর শহরের সাতটি প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে সাতটি ভাস্কর্য। কিন্তু যশোরের গর্ব ও গৌরবের এ সাতটি ভাস্কর্য এখন রয়েছে চরম অযতœ অবহেলায়। বিশেষ করে শহরের পালবাড়ি মোড়ের ভাস্কর্য ও মনিহার এলাকার বিজয় স্তম্ভের অবস্থা সবচে বেশি করুণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রবেশদ্বার পালবাড়ি মোড়ে অবস্থিত ভাস্কর্যটি ঘিরে ময়লা আবর্জনার স্তুপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এই স্থানটি ময়লা ফেলার জন্য ব্যবহার করছে। মানুষ চেতন-অবচেতন মনে ময়লা ফেললেও এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। এছাড়া এই ভাস্কর্যের চারপাশে নেতার মুক্তি দাবি, মামলা প্রত্যাহার দাবিসহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বিজ্ঞাপন লাগিয়ে ভাস্কর্যটাই যেন দখল করে নেয়া হয়েছে। এতে সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অপরদিকে, শহরের মনিহার এলাকার বিজয়স্তম্ভের আরও করুণ দশা। এ বিজয় স্তম্ভটি যেন পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে। সেখানে ময়লা আবর্জনা রাখতে রাখতে যেন স্থানটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষ হরহামেশাই সেখানে প্রস্রাব করছে। যেন বিজয়স্তম্ভের পাদদেশ গণশৌচাগার। যে কারণে দুর্গন্ধে আশপাশ দিয়ে হেঁটে চলাও দুস্কর হয়ে পড়েছে পথচারীদের জন্য। গতকাল মঙ্গলবার সেখানে সারিবদ্ধভাবে প্রস্রাব করার দৃশ্যও চোখে পড়েছে।
বিজয়স্তম্ভের পাদদেশে মূত্রত্যাগের পর মনিরুল ইসলাম নামে পথচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই প্রস্রাব করে তাই তিনি আনমনেই প্রসাব করেছেন। তবে এটা অন্যায় বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে এমএম কলেজ, মহিলা কলেজ, পুরাতন কসবাস্থ ভাস্কর্যটি কিছুটা ভাল থাকলেও তার সৌন্দর্য রক্ষায়ও কোন ভূমিকা নেয়া হয় না।
এদিকে, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই ভাস্কর্যগুলো চরম অবহেলায় পড়ে থাকায় দেশপ্রেমিক সচেতন মানুষের মনে দারুণভাবে আঘাত লাগে। সেকথাই বলেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে বিএলএফ’র বৃহত্তর যশোর জেলার উপ প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। তিনি বলেন, এগুলো আমাদের স্বাধীনতার স্মারক। তাই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বা পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সকলের। এজন্য নাগরিকদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমননি পৌর প্রশাসনকে দেখভালের দিকে নজর দিতে হবে। তবেই এর যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।

শেয়ার