সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভলিউম বই’র পাতা ছেড়াকাটা নিয়ে তোলপাড়

registry volium book
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিউম বইয়ের পাতা কাটা-ছেড়ার ঘটনা ফাঁসের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগি ধুলিহার বড় খামার এলাকার রফুজা বেগম ও তার স্বামী নুর ইসলাম বুধবার সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এসে তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে দেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে অফিসের আলোচিত কপিষ্ট আবুল হাসান চাপ সৃষ্টি করে। তবে তারা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করে দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
সদর উপজেলার বড় খামার গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী রফুজা বেগম জানান, তার পিতা কেরামত আলী ৬৩ সালে জনৈক ছন্নত বিবির নিকট থেকে ২১ শতক জমি খরিদ করেন। ১৯৬৯ সালের ২৫ জানুয়ারি ৪০৬ নং দলিল মুলে কেরামত আলী ওই জমি ঝড়ি বিবির নিকট বিক্রি করেন। পরে ২০০৫ সালে ঝড়ি বিবির নিকট থেকে ২৩৮৮ নং দলিল মুলে ক্রয় করেন কেরামত আলীর মেয়ে রফুজা খাতুন। বর্তমানে সুন্নত বিবির ছেলে আবুল কাশেম ও ইউসুফ আলী, কন্যা কদবানুর নিকট থেকে ওয়ারেশসূত্রে প্রাপ্ত দেখিয়ে হেবানামা দলিল ঘোষণায় ক্রয় করেন ইউসুফ আলী। ওয়ারেশ দেখাতে যেয়ে উপরোক্ত দলিল নাম্মার গুলোর স্থানের ভলিউম বইয়ের পাতা ছিড়ে গায়েব করা হয়েছে। সদর সাব রেজিস্ট্রার আ.ফ.ম আব্দুল মুজির এতে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগির। সর্বশেষ গত ৪ মে ৩৩৮১/১৪ নং দলিল সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল মুজির স্বাক্ষরে ফের সম্পাদন করা হয়েছে। অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলিল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ৩৩৮১/১৪ নং দলিলটি পরিস্থিতি বুঝে সাব রেজিস্ট্রার এখন অফিস থেকে ছাড় করেননি। অপরদিকে সাব রেজিস্ট্রার আ.ফ.ম আব্দুল মুজির এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এক হাত দেখে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে আস্ফালন করে বলেছেন, আমি অন্য সাব রেজিস্ট্রারের মত না। প্রয়োজনে অফিসের বাইরে হকস্ট্রিক ব্যবহার করতে হলেও করবো। এছাড়াও তিনি নানা প্রকার অশালিন মন্তব্য করে সাংবাদিকদের দেখে নেবেন বলে আস্ফালন করেছেন। এ ঘটনায় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

শেয়ার