যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাসপাতাল আর ক্যান্টিন খুলে গলাকাটা ব্যবসা ॥ প্রতিবাদ করলে নির্যাতন !

jessore karagar
এস হাসমী সাজু ॥
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মকর্তা বদল হলেও বদলে যায় না অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। ক্ষেত্র বিশেষ দুর্নীতির চিত্র ভয়াবহরূপ নেয়। নেমে আসে হাজতি-কয়েদীর ওপর নানা কারণে মানুষিক ও শারিরীক নির্যাতন। বর্তমানে জেল সুপার শাহজাহান আহম্মেদ ও ফার্মাসিষ্ট ওলিয়ার রহমানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রায় আড়াই হাজার হাজতি-কয়েদী। দু’হাতে টাকা কামাতে তৈরি করা হয়েছে নানা খাত। এরমধ্যে ক্যান্টিন খুলে গলাকাটা ব্যবসা আর সুস্থ হাজতি ও কয়েদীকে মেডিকেলে রেখে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন অংকের টাকা। ফলে অসুস্থ কোন কয়েদী বা হাজতির ঠাঁই হচ্ছে না কারা হাসপাতালে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে নেমে আসে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। অপরদিকে কারাগারের ভেতরে ফার্মাসিস্টের জন্য কোয়ার্টার বরাদ্দ থাকলেও অবৈধ অর্থ নির্বিঘেœ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ভাঁড়া বাড়িতে থাকেন।
কারা হাসপাতালের নির্ভরশীল সূত্রে জানা যায়, কয়েদি ও হাজতিদের জন্য কারা অভ্যন্তরে ৩০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলায় ৩০ শয্যা হাসপাতালে বর্তমানে রোগী রাখা হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ জন। কিন্তু এদের অধিকাংশরা সুস্থ্য। শুধুমাত্র মেডিকেলের সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য তাদের অভিভাবকরা মাসিক চুক্তিতে টাকা দিয়ে মেডিকেলে রাখার ব্যবস্থা করেন। এই টাকার ভাগবাটোয়ারা হয় জেল সুপার, জেলার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার এবং ফার্মাসিস্টের মধ্যে। এদিকে চিকিৎসক শূন্যতার অজুহাতে কারা হাসপাতালে প্রশিক্ষণ বিহীন ওলিয়ার রহমানকে ফার্মাসিস্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হয়েও রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন ! যশোর টিভি ক্লিনিক হাসপাতালের ডাঃ আরিফ ভারপ্রাপ্ত ডাক্তারের দায়িত্বে থাকলেও তিনি সপ্তাহে একদিনও যান না হাসপাতালে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে হাতুড়ে ফার্মাসিস্ট ওলিয়োর রহমান। তিনি হাসপাতালে সরকারি (ইডিসিএল) এর ওষুধ কারাগারের রোগীদের না দিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করছেন। এরবাইরে ৩ তলায় পাগলা রোগীদের জন্য রয়েছে ১৫ শয্যা বেডের হাসপাতাল। ২ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভালো হাজতি বা কয়েদী সেখানে থাকেন রাজস্বিকহালে। কোন কয়েদি বা হাজতি এই অবৈধ কর্মের প্রতিবাদ করলে সুপারের নির্দেশে তাদের ওপর নেমে আসে পৈশাচিক নির্যাতন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওলিয়ার রহামেনর এই অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে ছাত্রদল নেতা উজ্জ্বল শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। শুক্রবার সকাল ৮টায় কারাগারে তার মৃত্যু ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সুপার শাহাজান তাকে পাঠিয়ে দেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এমন অভিযোগ কারাগারের একাধিক বিশ্বস্ত সুত্রের। জানা যায়, ওলিয়ার রহমান ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বদলি হয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন। এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর জেল সুপার শাহাজারের সাথে গড়ে তোলেন অনৈতিক দেনদরবারের সম্পর্ক। যেকারণে ওলিয়ার জেলখানায় ধরাকে সরা জ্ঞান করে। এদিকে কারাগারের বাইরে ও ভেতরে দুটি ক্যান্টিন থেকে অবৈধভাবে প্রতিমাসে ১০ লাখেরও বেশি টাকা রোজগার করে ইনচার্জ সিপাই ইদ্রিস। এই টাকার ভাগাভাগী হয় সুপার, জেলারসহ ৫/৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে। এব্যাপারে ফার্মাসিস্ট ওলিয়ার রহমানের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার গ্রামীণ ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। জেল’র মহিউদ্দিন হায়দার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন অর্থের বিনিময়ে কারা হাসপাতালে থাকার কোন সুযোগ নেই। সুপারিশ করে কেউ কেউ থাকতে পারে। তবে কোন অর্থ নেয়া হয় না। জেল সুপার শাহজাহান বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে দ্রুতই ফোনের সংযোগ কেটে দেন। যশোর সিভিল সার্জন আতিকুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকায় টিভি ক্লিনিক হাসপাতালের ডাঃ আরিফকে জেল পাসপাতালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি কখনোই কারাগারে রোগী দেখতে যান না এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন এটি দেখার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। এদিকে সদ্য কারামুক্ত বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

শেয়ার