যশোর শহর ছাপিয়ে সব উপজেলার বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব ॥ বাড়ছে শাক-সবজি মাছ-মাংশ ও ফলমূলসহ নিত্যপণ্যের দাম॥ মনিটরিং নেই

shakshobji
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মাহে রমজানের আগের দিনও যশোরে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে ছিল। বেশ স্বস্তিও পরিলক্ষিত হয়েছিল ক্রেতা-ভোক্তা ও জনসাধারণের মধ্যে। কিন্তু রোজার প্রথমদিনেই বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরী পাল্টে গিয়ে নাভি:শ্বাস তুলে দিয়েছে নিম্ম আয়ের মানুষের। বেসামাল বাজারে ঢুকলে মুহুর্তেই পকেট শূন্য হয়ে যাচ্ছে। তারপরও পরিবারের সদস্যদের খুশি করতে পারছেন না সংসারের নির্বাহী অভিভাবক। বিশেষ করে শাক-সবজি আর মাছ-মাংশসহ ফলের বাজারে হু-হু করে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে দাম। কিন্তু কেন (?) তার কোন সদুত্তোর নেই। কেউ বলছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজির ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বেড়েছে তরিতরকারির দাম। পিয়াজ-রসুন আলুর দাম বেড়েছে সরবরাহ কমের কারণে। মাছ-মাংশ ও ফলের দাম আগে থেকেই চড়া ছিল..ইত্যাদি। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দাম বৃদ্ধির পেছনে রহস্য আছে। সিন্ডিকেট গড়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার ব্যবস্থায় প্রশাসনের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই প্রয়োজনীয় মনিটরিং বা বাজার তদারকি। যেকারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা জেলা শহর আঁছড়ে উপজেলার বাজারগুলোকেও গ্রাস করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা গেছে, জেলার প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলা শহরের বাজারে সব দোকানে এক পণ্যের অভিন্ন দাম। হেরফের হলে জবাবদিহির বাইরে জরিমানাও দিতে দেয়ার ভয় রয়েছে দোকানীর। তবে গ্রামাঞ্চলের বাজারে দামের হেরফের হলেও সিন্ডিকেটের নির্দেশনা মানছেন না কেউ কিন্তু দামের ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব পড়েছে। কারণ পাইকারী বিক্রেতারা কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চড়াদামে কিনে আনছেন শাক-সবজিসহ নিত্য দিনের অনেক পণ্য। যেকারণে গ্রামের বাজারে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য খুব বেশি উঠছে না। ক্ষেতের বাদপড়া শাক-সবজি, ফলমুল তাও চাহিদার তুলনায় কম পণ্য গ্রামের বাজারে উঠছে।
যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, বেনাপোল, মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে বাজার দর অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বাজারদর মনিটরিংয়ে টাক্সফোর্সের কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি। অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের মজুদ গড়ে মূল্য অস্বাভাবিকহারে বাড়িয়ে দিয়েছে। বেগুনের গায়ে আগুন লেগেছে। প্রতি কেজি বেগুন ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে। রোজাদারদের ইফতারির বিশেষ আকর্ষণ ধনেপাতার দাম আকাশচুম্বি হয়েছে। প্রতিকেজি ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৭শ থেকে ৮ শ টাকা ! যা মধ্য ও নিম্মবিত্ত আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। প্রতি কেজি শশা বিক্রি হচ্ছে ৫০/৬০ টাকা। তবে ৩২/৩৩ টাকা দরেও নিম্মমানের শশা বিক্রি হচ্ছে বাজারে। কাচা মরিচ ৫৫/৬০ টাকা, আদা, রসুন, পিঁয়াজ, আলুর প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। পিয়াজ দেশি ৩৪ থেকে ৩৫, এলসি ৩২ টাকা, রসুন দেশি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, এলসি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, গোল আলু ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুঁইশাক প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ভেনডি ৪০/৫০, পটল ২৪/৩০, কলা ২৫/৩২, সবুজ শাক প্রতি আটিঁ ১০ থেকে ১২ টাকা, কচুলতি ৩০/৩৫ টাকা, ঝুপিকচু ৩৫/৪০ টাকা, পেপেঁ ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টকুমড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ফরমালিন আতঙ্কের মধ্যেও আমের দাম কমছে না। সুস্বাদু আম মল্লিকা , খিসসা, লোকনাই ও আম্রপালী বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লেংড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারী গোছের কাঠাল কিনতে হচ্ছে ৫০/৬০ টাকায়। এদিকে মাছের বাজারেও আকাল পড়েছে । লোভনীয় দেশী শিং (জিয়েল) ৭শ থেকে ৮ শ টাকা, ক্রসের মাধ্যমে ঘেরে চাষ করা কৈ ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা, ২/৩ কেজি ওজনের রুই ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, বাগদা ও হরিণা চিংড়ি ৪শ থেকে ৪শ ৮০ টাকা, পারসে মাছ সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকা, রুপালী ইলিশ ছোট আকারের হলেও দাম সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা কেজি হাকানো হচ্ছে। দেশি চাষের পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও সামদ্রিক ছোট মাছ কলমবিয়া ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও মাংসের দাম তুলনামুলক বাড়েনি দাবি। যদিও পোল্ট্রির দাম কেজিতে ৫/১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংস সাড়ে ৪ শ থেকে ৫শ টাকা, গরুর মাংস ২৫০/২৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগী ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা বাজার পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি বৃষ্টিজনিত কারনে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে আম লিচু কাঠালে জ্বর বইছে। যদিও এবছর কখনোই আম ও লিচুর দাম কমেনি। যেকারণে নিম্ম ও মধ্যবিত্তদের অনেকে এবার লিচু কিনতে পারেননি। কেউ দু’এক কেজি আম কিনে বছর খোড়া করেছেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এক পণ্যের দাম একশ দোকান ঘুরলেও একই দাম চাওয়া হচ্ছে। দু’একজন দোকানী খুব চুপিসারে দু’এক টাকা কম নিলেও তার চেহারায় ফুটে উঠছে আতঙ্কের ছাপ। এতে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার বিষয়টির প্রমাণ মেলে বলে দাবি ক্রেতা-ভোক্তাসহ সচেতনমহলের। তবে নিয়মিতভাবে বাজার দর মনিটরিং করা হলে পণ্যমূল্য ফের সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে অভিমত সচেতনমহলের।

শেয়ার