কিশোরীর পেটে চুলের বল!

hear
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী নেহা সাউয়ের বাড়ি পশ্চিমেবঙ্গের কলকাতায়। বয়স মাত্র ১২ কিংবা ১৩। গত প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর ধরে যখন খুশি তখন নিজের মাথার চুল ছিঁড়ে খাওয়ার অভ্যাস ছিল নেহার। এ জন্য মা-বাবা বকেছেন, মেরেছেনও। তাতেও নেহার চুল খাওয়া থামেনি। বছরের পর বছর সেই থোকা থোকা চুল পাকস্থলীতে জমে প্রায় এক ফুট লম্বা এবং আড়াই কেজি ওজনের বলে পরিণত হয়।
গত এক বছরে সে কিছু খেতে পারতো না। যাই খেত সব বমি হয়ে বের হয়ে যেতো। সঙ্গে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা তো আছেই। শরীর রোগা, দুর্বল হতে থাকে, তবে পেটটা ফুলে যায়। শেষে ধরা পড়ে এই চুল খাওয়ার রোগের কথা।
সোমবার শিয়ালদহ ইএসআই হাসপাতালে নেহার অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক সুপ্রিয় রায়, সোমনাথ ঘোষ ও বিজয় বিশ্বাস অস্ত্রোপচারের পর চুলের টিউমারটি বের করেন। মেয়েটি আপাতত সুস্থ রয়েছে।
ভারতের শিশু চিকিৎসক বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, চুল ছেঁড়ার এই অভ্যাসকে চিকিৎসার ভাষায় ‘ট্রাউকোটিল্লোম্যানিয়া’ বলে। আর চুল ছিঁড়ে খেয়ে ফেলাকে বলে ‘ট্রাইকোবেজোয়ার।’ অনেক সময়ে চুল পেটের মধ্যে জমতে-জমতে লম্বা হয়ে পায়ুর কাছাকাছি চলে যায়। তখন একে বলা হয় ‘র‌্যাপুন্জেল সিন্ড্রোম’।

ছোটদের মধ্যে চক, পেনসিল, কাঠ, হাতের বা ঠোঁটের চামড়া, কাপড়, দেওয়ালের রং, মাটি, ঘুঁটের মতো বিভিন্ন জিনিস খাওয়ার বদভ্যাস থাকে। এর থেকে হাতে-ঠোঁটে ক্ষত, পেটে আলসার থেকে প্যাংক্রিয়াটাইটিস পর্যন্ত হতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় না হলে মৃত্যুও অসম্ভব নয়।

মনোবিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল জানান, সাধারণত মেয়েদের সঙ্গে মায়েদের কোনো মানসিক অমিল থাকলে শিশুকন্যার মধ্যে এই রকম চুল ছিঁড়ে খাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। কোথাও মানাতে অসুবিধা হলে, আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটলেও এমন বদভ্যাস জন্মাতে পারে। সবাই দেখে ফেলতে পারে মনে করে সে লুকিয়ে-লুকিয়েও এটা চালাতে পারে। ফলে তাদের আচরণের দিকে নজর রাখা, তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা, মনের কথা বোঝার চেষ্টা করা খুব দরকার।

শেয়ার