বকেয়া পরিশোধসহ বন্ধ মিল চালুর দাবি ॥ খুলনায় ডিসি অফিস ঘেরাও করে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি বেসরকারি জুটমিল শ্রমিকদের

01
খুলনা ব্যুরো॥ বেসরকারি জুট মিল মহসিন ও সোনালী চালু ও এজাক্সসহ অন্য সকল বন্ধ মিল পূর্ণাঙ্গ চালু ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে প্রধানমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পাটকল পরিদর্শকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন। বেসরকারি পাট, সূতা, বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে রোববার বেলা ১২টায় দাবি আদায় কর্মসূচি সম্বলিত এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরআগে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার সরকারি ও বেসরকারি জুট মিলের বেতন পৃথক করার পর ২০১৩ সালে ২২ মে বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপে নতুনমজুরী কাঠামোন আওতায় আসেন শ্রমিকরা। কিন্তু মজুরী কাঠামো দেয়ার পর মিল মালিকরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিভিন্ন জুট মিলে নতুন মজুরী কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া খুলনার মহসিন জুট মিল গত বছর ২২ প্রথম লে-অফ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে দফায় দফায় লে-অফ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে পঞ্চম দফায় লে-অফ চলছে। সোনালী জুট মিল গত ২৭ মার্চ বিনা নোটিশে বন্ধ করা হয়। সোনালী জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া ১২ সপ্তাহ, কর্মচারীদের ৯ মাসের মজুরী ও বেতন বকেয়া রয়েছে। নওয়াপাড়া জুট মিলের ২ ও ৩ নং মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আফিল জুট মিলের হেসিয়ান বিভাগ বন্ধ রয়েছে। সাগর জুট মিলেও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া মিলগুলো পাটক্রয় বন্ধ করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্পনগরী খুলনাসহ দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চল মৃত্যুপুরিতে পরিণত হবে। নেতৃবৃন্দ, যদি মালিকরা বন্ধ মিল চালু না করে, বকেয়া বেতন না দেয়, মালিকরা যে টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে মিল চালুর জন্য তা দিয়ে যদি মিল চালু ও পাটক্রয় না করে তাহলে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অবিলম্বে বন্ধ পাটকল চালু ও বকেয়া পরিশোধের না করা হয় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা দেয়ার হুশিয়ারি দেন। এদিকে দাবি আদায়ে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ সোমবার থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সকল মিল গেটে সমাবেশ, ৪ জুলাই বিকাল ৫টায় লাঠি মিছিল, ৬ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ১০ জুলাই প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে। বেসরকারি পাট, সূতা, বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ’র নেতৃত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আনছার আলী, তৈয়্যেবুর রহমান, রহমান মোল্লা, আমজাদ হোসেন, শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, আঃ রমান, গিয়াস উদ্দিন, মুরাদ হোসেন, আতিয়ার মোল্লা, আঃ সালাম, বক্তিয়ার হোসেন ও ওবায়দুর কাদের প্রমুখ।

শেয়ার