কেশবপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু

prosno potro fash todonto
ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর॥ কেশবপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অর্ধবার্ষিক পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদ মোহম্মদ মোমেনসহ কমিটির অপর সদস্যরা গতকাল স্কুলে গিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৪ শিক্ষকের শুনানী গ্রহন করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২৫ জুন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কেশবপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে চলতি বছর অর্ধবাষিকী পরিক্ষা চলাকালে ১০ম শ্রেনীর রসায়ন পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানতে পেরে ২৫ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার কেন্দ্রে উপস্থিত পরীক্ষা স্থগিত করেন। বিভিন্ন সুত্রের দাবি, স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা (বিজ্ঞান) দিলরুবা খাতুন রসায়ন পরিক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে তা ছাপানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলীর নিকট হস্তান্তর করেন। এসময় তিনি একটি নমুনা কপি নিজের কাছে রাখেন। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী পরিক্ষার প্রশ্নপত্র পৌর সদরের সিটি কম্পিউটার থেকে নিজ দায়িত্বে ছেপে স্কুলে সংরক্ষণ করেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। পরবর্তিতে শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন তার কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহ আগে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন বলে চাউর হয়। কিন্তু এ হাত ও হাত হয়ে তার কপি পৌঁছে যায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে। তিনি নিজ ক্ষমতাবলে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা পরীক্ষা স্থগিত করেন। ফলে রসায়ন বিভাগের ৬২ জন শিক্ষার্থীর একটি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। তবে সহকারি প্রধান শিক্ষক বা কম্পিউটারের দোকান থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ রয়েছে। একারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেউ দোষারূপ করা অনুচিত হবে বলে মনে করেন সচেতনমহল। গতকাল সকালে প্রথম ধাপে কেশবপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান, সহকারী প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলি, সহকারী শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন ও ফারুকসহ ৪জন শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কমিটির আহবায়ক সায়েদ মোহম্মদ মোমেন জানান, তদন্ত দ্রুত শেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

শেয়ার