রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে

war tribunal
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

রোববার বিকেলে প্রসিকিউশনের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম এ হান্নান খান ও সিনিয়র সমন্বয়ক সানাউল হক ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরি দেবনাথ। প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা ও এ মামলার সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন প্রসিকিউশন।

এর আগে সকালে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানম-ির সেফহোমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম এ হান্নান খান ও সিনিয়র সমন্বয়ক সানাউল হক ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরি দেবনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন হাসান আলী। সে সময় তিনি তাড়াইল থানা এলাকায় ‘রাজাকারের দারোগা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে না থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা গ্রামে বসবাস করছেন।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে-১ সোমবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

গত বছরের ৬ জুন থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত সংস্থা। গত ১৯ জুন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম শেষে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হরি দেবনাথ।
একেকটি অভিযোগের বিপরীতে ৬ থেকে ৭ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন হাসান আলীর বিরুদ্ধে।

শেয়ার