নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পাস

Badget
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৬০ ঘণ্টা আলোচনার পর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেট।
রোববার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধরীর সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে আগামী অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। মঙ্গলবার থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হচ্ছে। গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বাজেট পেশ করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদ সদস্যরা ৬০ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন।
বাজেট পাস হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রোববার অধিবেশনের শুরুতেই জানান নয়টি মঞ্জুরী দাবিতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একজন ও একজন স্বতন্ত্র সাংসদ আলোচনা করবেন। তখন পর্যন্ত মঞ্জুরী দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব দেওয়া অনেক সংসদ সদস্যই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আরো কয়েকটি দাবিতে আলোচনা করেন।
এই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে এডিপিতে ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি ৪৮ টাকার কর্মসূচি রয়েছে। সব মিলে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট খরচ দেখানো হচ্ছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
নতুন অর্থ বছরে অনুন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট তিন লাখ ৮২ হাজার ৩৪০ কোটি ১ লাখ ২১ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে রোববার পাস হয়।
এর মধ্যে সাংসদদের ভোটে গৃহীত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ ৩০ হাজার ৪১৭ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় এক লাখ ৫১ হাজার ৯২২ কোটি ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে বেতন ইত্যাদি দায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মোট বাজেট ব্যয়ের মধ্যে বৈদেশিক অনুদান রয়েছে। সেই অনুদান বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নির্দিষ্টকরণ অর্থ মঞ্জুরের জন্য সংসদে পাস করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতের ৫৬টি মঞ্জুরী দাবির বিপরীতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সাংসদেরা ২৪৯টি বিভিন্ন ধরনের ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জনপ্রশাসন, আইন, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে মঞ্জুর দাবির বিপরীতে।
তবে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সাংসদদের আলোচনা সত্ত্বেও ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে বাতিল করা হয়।
শুরু হতে হওয়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য পাস হওয়া বাজেট ব্যয় দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে অনুদান বাদ দিলে ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াবে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকায়। শতকরা হিসাবে যা ৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে ছয় হাজার ২০৬ কোটি টাকার অনুদান পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছে।

শেয়ার