৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ আশরাফুল

Ashraful
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ক্রিকেটে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বুধবার বিকালে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই শাস্তি ঘোষণা করে।
বুধবার বিকেলে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনাল প্রধান সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী এই শাস্তি ঘোষণা করে জানান, ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শেষ হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ২১ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল প্রধান সাবেক বিচারপতি আবদুর রশিদের কাছে আপিল করতে পারবেন।
“এই ট্রাইব্যুনালে আমরা দশ জন বিবাদির বিরুদ্ধে বিচার করেছি। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারির রায়ে ছয় জন নির্দোষ পেয়েছি আর চার জনকে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মোহাম্মদ আশরাফুলের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ ছিল, সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।”
“চারটি অভিযোগই ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিটি অভিযোগে আট বছর তাকে খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তাকে অতিরিক্তি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এই টাকা বিসিবিকে দিতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
অন্তত পাঁচ বছর নিষিদ্ধ থাকতেই হচ্ছে আশরাফুলকে। এর মধ্যে বিসিবি, আইসিসি বা এসিসির কোনো শিক্ষা বা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে সাবেক এই অধিনায়ককে। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর বাতিল হতে পারে বাকি তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা।
গত বছরের ১৩ মে থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়ে আছেন আশরাফুল। নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞার হিসেব হবে সেই দিন থেকেই।
একটি অভিযোগ ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যবস্থপনা পরিচালক শিহাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ২০ লাখা টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
প্রস্তাব পাওয়ার পরও না জানানোর অভিযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার কৌশল লুকুয়ারাচ্চির বিরুদ্ধে। তাকে ১৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ট্রাইব্যুনাল। একই অভিযোগে ৩৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার লু ভিনসেন্টকে।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি তার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। গত আট জুন জানানো হয় বিস্তারিত রায়। এখন দোষীদের শাস্তি ঘোষণা করা হলো।
শাস্তির সময়ে দোষ স্বীকারের ব্যাপারটি বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল কি না এই প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম জানান, শাস্তির মাত্রা দেখলে আপনারাই বুঝতে পারবেন বিবেচনা হয়েছিল কি না।
প্রমাণের অভাবে কেউ কেউ পার পেয়ে গেল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিচার শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই ব্যাপারে কথা বলা ঠিক নয়। আর প্রমাণের দায়িত্ব ছিল বিসিবি ও আইসিসির। তবে এমন অনুভূতি যে হয়নি তা নয়।”
২৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত সংক্ষিপ্ত রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হন জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক, বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেন ও পেসার মাহবুবুল আলম। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াদ এবং ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সও নির্দোষ প্রমাণিত হন।
গত ১৪ অক্টোবর আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুর রশিদকে ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের চেয়ারম্যান নিয়োগ করে বিসিবি। তিনি বিধি অনুযায়ী ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের ১০ সদস্য নিয়োগ করেন।
গত ১০ নভেম্বর বিচারপতি খাদেমুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিন তিন সদস্যের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন আজমামুল হোসেন কিউসি ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।
গত ১৩ অগাস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিসি ও বিসিবির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর জন্য জড়িত থাকায় ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার কথা জানান আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন।
সংক্ষিপ্ত রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আইসিসি ও বিসিবি। দুটি সংস্থাই জানিয়েছিল, রায়ের বিস্তারিত পাওয়ার অপেক্ষায় করছেন তারা।

শেয়ার