মেসি ম্যাজিকে জয় আর্জেন্টিনার ॥ জিতেছে ফ্রান্স, শেষ মুহূর্তের গোলে পরাজিত ইকুয়েডর

FBL-WC-2014-MATCH11-ARG-BIH
সমাজের কথা ডেস্ক॥
ক্ষুদে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ম্যাজিকে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা বসনিয়ার বিরুদ্ধে জিততে ঘাম ছুটে গেছে ম্যারাডোনার উত্তরসূরীদের। এদিন অনায়াস জয় পেয়েছে ফ্রান্স। বেনজেমার জোড়া গোলে ৩-০ তে ফ্রান্স পরাজিত করেছে হন্ডুরাসকে। আর ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড।
আর্জেন্টিনা-বসনিয়া : বসনিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে খেলার প্রথমার্ধে প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্যুতি ছড়াতে পারেনি দলটির ফ্যাব ফোরের (লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুয়েন, সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া) কোনো সদস্য।
এদের মধ্যে প্রথম একাদশেই ছিলেন না গঞ্জালো হিগুয়েইন। আর বাকি তিন জন খেললেও বল পায়ে খুব একটা দেখা যায়নি তাদের। সুপার হিরোদের এমন অনুজ্জ্বল পারফম্যান্সে প্রথমার্ধটা একেবারেই ম্যাড়মেড়ে দেখিয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটে অর্থাৎ খেলার ৬৫ মিনিটে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোল করেন মেসি। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে তার নেওয়া শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি বসনিয়া গোলরক্ষক। এ গোলের মধ্যদিয়ে মেসি জানান দিয়ে রাখলেন গোল্ডেন বুটের দৌঁড়ে থাকছেন তিনিও।
এর আগে, খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির ফ্রি কিক বসনিয়ান ডিফেন্ডার কোলাসিনাক ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজ জালে বল জড়িয়ে ফেলেন। ফল যা হওয়ার হয়ও তা। ১-০ তে এগিয়ে যায় আলেসান্দ্রো সাবেলার শীষ্যরা।
তবে, প্রথমার্ধে আলেসান্দ্রো সাবেলার শীষ্যদের দৌঁড় ছিলো ওটুকুই। খেলার প্রথমার্ধে আর কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি ফ্যাব ফোরের তিন সদস্য মেসি, আগুয়েরো ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া কেউ তেমন কোনো ঝলকও দেখাতে পারেনি।
উল্টো বসনিয়ার আক্রমণ ভাগের সদস্যদের আক্রমণ ঠেকাতেই তটস্থ ছিলো আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। ভাগ্য সহায় হলে প্রথমার্ধেই গোল পরিশোধ করে এগিয়ে থাকতে পারতো বসনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্যাব ফোরের চতুর্থ সদস্য হিগুয়েনকে মাঠে নামান স্যাবেলা। সেই সঙ্গে মাঠে নামেন মধ্য মাঠের সেনা গ্যাগো। দুই খেলোয়াড় বদল করলেও খুব একটা বদলায় না আর্জেন্টিনার খেলার চিত্র।
বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে বসনিয়া। তবে দুর্বল আক্রমণ ভাগের কারণে বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অপরদিকে দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটের মাথায় কিছুটা সহজ সুযোগ পান ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনার মেয়ে জামাই আগুয়েরো। কিন্তু তার লক্ষ্যচ্যুত শট ঠেকাতে কোনো চেষ্টাই করতে হয়নি বসনিয়া গোলরক্ষককে।
এরইমধ্যে খেলার ৬৫ মিনিটে ঝলক দেখানোর সুযোগ পান মেসি। সুযোগ পেয়ে ভক্তদের বঞ্চিত করেননি তিনি। তবে ওই গোলটুকুই। এরপর আবারও খোলসে ঢাকা পড়ে যান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। ফলে প্রথম ম্যাচে অতৃপ্তি নিয়েই থাকতে হচ্ছে আর্জেন্টিনা ভক্তদের।
এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মতো দ্বিতীয় গোল খেয়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে বসনিয়া। খেলার ৮৪ মিনিটে বসনিয়া স্ট্রাইকার ইবিসেভিচ গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ২-১ এ। অবশ্য এ গোলের জন্য তার অবদানের চেয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের ব্যর্থতাই ছিলো বেশি।

ফ্রান্স-হন্ডুরাস : করিম বেনজেমার জোড়া গোলে ৩-০ তে জয়ী হয়েছে ফ্রান্স। খেলার ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এবং ৭২ মিনিটে ম্যাথিউ ডেবুচির পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বেনজেমা। এছাড়া ৪৮ মিনিটে হন্ডুরাস গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোলটিতেও অবদান রয়েছে এই রিয়েল মাদ্রিদ তারকার।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে নামা দুর্বল হন্ডুরাসকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও ২ গোল দিয়ে ব্যবধান ৩-০ করে ফ্রান্স।
খেলার ৪৮ মিনিটে হন্ডুরাসের গোলরক্ষক ভাল্লাদেরেসের আত্মঘাতী গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ৪৮ মিনিটেই গোল পায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ সময় করিম বেনজেমার ভলি সাইড বারে লেগে হন্ডুরাসের গোলবার অতিক্রম করে। বেনজেমা গোল উৎসবে মেতে উঠলেও গোললাইন প্রযুক্তির কল্যাণে দেখা যায় বলটি বার থেকে গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে গোললাইন অতিক্রম করেছে।
এরপর ৫৬ মিনিটে ভালবুয়েনার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫৮ মিনিটে ডেবুচি ও মাতিউদির ওয়ান টু ওয়ানে ডিবক্সের ভেতর ঢুকে পড়লে গোলরক্ষক ভাললাদেরেস নিপুণ দক্ষতায় আরও একটি গোল হজম করা থেকে রক্ষা করেন হন্ডুরাসকে।
এর আগে প্রথমার্ধে খেলার ৪৩ মিনিটে পল পগবাকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হন্ডুরাসের মিড ফিল্ডার প্যালাসিওকে। একই সঙ্গে পেনাল্টি দেওয়ায় ফ্রান্স পেয়ে যায় গোল করার সুবর্ণ সুযোগ।
আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি রিয়েল মাদ্রিদ তারকা করিম বেনজেমা। পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেন তিনি, তার একমাত্র গোলে ১-০ তে এগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় মাঠে নেমেছে ফ্রান্স।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেললেও হন্ডুরাসের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত থেকে যায় ফ্রান্স।

সুইজারল্যান্ড-ইকুয়েডর : ম্যাচের বেঁধে দেওয়া সময় (৯০ মিনিট) পর্যন্তও ১-১ সমতায় খেলছিল সুইজারল্যান্ড ও ইকুয়েডর। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হতে থাকলেও ড্র’তেই যেন ম্যাচটির মীমাংসা হতে চলছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে বল পাঠিয়ে দলকে নাটকীয় জয় উপহার দেন সুইজারল্যান্ডের বদলি খেলোয়াড় হ্যারিস সেফারোভিচ। মিড ফিল্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজের পাস থেকে পাওয়া বল ইকুয়েডরের গোলপোস্টের উপরের বাম কোণ দিয়ে বাম পায়ের শটে জালে পাঠান হ্যারিস।
প্রথমে গোল হজম করেও ম্যাচ শেষে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।
‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের শেষ মুহূর্তের আগ পর্যন্ত ১-১ গোলে খেলতে থাকা দু’দলই জয় তুলে নিতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার পর বেশ ক’বার প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেয় সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকাররা। কিন্তু একবারই গোলপোস্টে বল জড়াতে সমর্থ হন রিকার্ডো রদ্রিগেজ। তবে, তার আগেই অফসাইডের সংকেত দেন লাইন্সম্যান। পাল্টা আক্রম করে বেশ ক’টি দর্শনীয় শট নেয় ইকুয়েডরও।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে অনেক পিছিয়ে থেকেও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এনার ভ্যালান্সিয়ার হেড থেকে পাওয়া দুর্দান্ত গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। ২২ মিনিটের মাথায় ওয়াল্টার আইওভির করা ফ্রি কিক থেকে গোলবারের খুব কাছ থেকে হেড নেন এনার। গোলরক্ষক দিয়েগো বেনাগলিওকে বোকা বানিয়ে এনার হেড সরাসরি বলকে জালে জড়ায়।
এরপর আক্রমণ করেও কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ইকুয়েডর।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ খেলতে নেমে শুরুতেই সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। ৪৮ মিনিটের মাথায় রিকার্ডো রদ্রিগেজের নেওয়া একটি কর্নার শট থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে সমতায় ফেরান আদমির মেহমেদী। প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের একেবারে কাছ থেকে মাঝবরাবর হেড নেন মেহমেদী।
চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, রোববার নিয়ে টানা পাঁচটি ম্যাচেই গোল করেছেন ইকুয়েডরেরর এনার। আর এ ম্যাচের তিনটি গোলের দু’টিই এসেছে হেড থেকে।

শেয়ার