চীনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পেতে চায় বাংলাদেশ

5

PM
সমাজের কথা ডেস্ক॥
সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে চীনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ পেতে চায় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে তিনি চীনের ব্যবসায়ী, বাণিজ্য ও শিল্প নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং বিনিয়োগের বাস্তব পরিস্থিতি তাদের কাছে তুলে ধরেছেন।
শনিবার সকালে কুনমিংয়ের হাইগেং কনফারেন্স সেন্টারে নবম চায়না- সাউথ এশিয়া বিজনেস ফোরামে বক্তব্যকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি আপনারা বাংলাদেশে ব্যবসার জন্য নিশ্চিতভাবেই আকর্ষণীয় পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা পাবেন।
শেখ হাসিনা দ্বিতীয় চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে আমন্ত্রণ জানানোয় ইউনান প্রদেশের গভর্নরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য প্রতিবেশীদের দিকে হাত বাড়ানো চীনা নেতাদের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিবিড় ও ব্যাপক অংশীদারিত্ব ভিত্তিক বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ সম্পর্ক আরো জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে আগ্রহী।
চীনের অর্থনৈতিক ও কারিগরি অগ্রগতির প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে। আর এটা সম্ভব হচ্ছে দেশটির গতিশীল ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে।
শেখ হাসিনা বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বুট) প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, জলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণের মতো বাংলাদেশের বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে আগ্রহ খুঁজে পেতে পারেন। আমাদের সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য সহায়ক।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) বিদেশী বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা- একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে পৃথক অর্থনীতি ও শিল্পাঞ্চল বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়া বাংলাদেশে সাতটি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা গঠন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমারের মধ্যকার অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করা গেলে সমগ্র অঞ্চল আর্থ-সামাজিকভাবে উপকৃত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিগত পাঁচ বছরের শাসনামলে (২০০৯- ২০১৩) বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এ সময়ে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ছয় শতাংশেরও বেশি ছিল। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচ কোটি লোক নিম্নআয় থেকে মধ্যআয়ের স্তরে পৌঁছেছে।
এছাড়া এ সময়ের মধ্যে দেশের রূপ্তানী আয় ১০৭ শতাংশ বেড়েছে, রেমিটেন্স বেড়েছে ৬২ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২১৭ শতাংশ এবং বৈদ্যুতিক সক্ষমতা ১০৯ শতাংশ বেড়েছে।
সড়ক, সেতু, মহাসড়ক, নগর পরিবহণসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো অবকাঠামো নির্মাণে চীনের সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম এবং আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস দেশ।
‘চীন-বাংলা বাণিজ্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে চীনে বাংলাদেশের রফতানি ছিল মাত্র ৪৫৮.১২ মিলিয়ন ডলার কিন্তু আমদানি ছিল ৬.৩০৭ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আরো বাংলাদেশী পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ থেকে আরো তৈরি পোশাক, ওষুধ, হস্তশিল্প, সিরামিক, চামড়াজাত পণ্য ও মৎস্য চীনের আমদানি করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্সিট পলিসিতে বাধা নেই- সে সাথে শতভাগ বিদেশি ইক্যুইটি সুবিধা, রয়েলটি ও মুনাফা দেশে পাঠানোর সুবিধা, বিদেশী বিনিয়োগের সুরক্ষা ও জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও চীনের প্রায় তিন বিলিয়ন ভোক্তার বিশাল বাজারে পণ্য যোগাতে পারে।
ফার্মাসিউটিক্যাল, পেট্রোকেমিক্যাল, জাহাজ তৈরি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, টেক্সটাইল, সিরামিক, চামড়া, পর্যটন, ম্যানুফ্যাকচারিং, আইসিটি, মানবসম্পদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নসহ আকর্ষণীয় ভ্যালু এডেড খাতে চীন বিনিয়োগ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জামিল আহমেদ, সার্কের সেক্রেটারি জেনারেল অর্জুন বাহাদুর থাপা, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ইসমাইল আসিফ, চায়না কাউন্সিল ফর প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের চেয়ারম্যান জায়াং চেংওয়ে, ইউনান প্রদেশের কমিটি অব পিপলস কংগ্রেসের সেক্রেটারি কিন গুয়াংরং বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং চীন, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও নেপালের বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থার নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

LEAVE A REPLY