মোদির উদ্দেশ্যে ভারতীয় জিহাদির বার্তা

jihad
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ২০০৬ সালে বিহারের বাইরিয়া গ্রামের এক মসজিদে নামাজিদের যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে বলছিলেন ছোটখাট গড়নের অল্প বয়সী ব্যক্তিটি।
গুজরাটের হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার জন্য দায়ী লোকটি যে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে সেই ব্যাপারে তিনি সর্তক করেন সমবেতদের।
ভারতীয় মুসলমানদের ভয়াবহ এক আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন যা এমনকি তাদের নিঃশেষ করে দিতে পারে। স্থানীয় অগ্রজেরা এই ধরনের বক্তব্য শুনে তাকে থামিয়ে দেন। স্থানীয় পুলিশের রেকর্ডে দেখা যায় কয়েক ঘন্টা ধরে সেখানে চলেছিল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা।
এই বক্তা হায়দার আলি, যাকে বন্ধুরা গাত্রবর্ণের কারণে মজা করে ডাকতো ‘ব্ল্যাক বিউটি নামে। সেই ঘটনার পর তিনি আর কখনই গ্রামে ফিরে আসেননি।
বুধবার বাইরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা আলিকে দেখেছেন টেলিভিশনের পর্দায়, কারন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, ২৭ অক্টোবর (২০১৩) ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাটনা জনসভায় হামলা। এটি ছিলো মোদিকে হত্যার তৃতীয় চেষ্টা।
যদিও আলিকে ধরতে পারাটা ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর জন্য বড় ধরনের সাফল্য। তবে এতে আনন্দে গা ভাসিয়ে দেয়াটা ঠিক হবে না। ভারতীয় মুজাহেদিনের একাংশ আনসার-উল-তাওহিদের, মানে এক আল্লাহর সৈনিক, ভিডিওচিত্র ‘দ্য হিন্দু’র হাতে এসেছে। ওই ভিডিওচিত্রে সংগঠনটির সদস্যদের আল কায়েদার ওয়াজিরিস্তানের ক্যাম্পে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়।
মোদির ওপরে হামলায় বলা হয়, আলি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপর ভরসা রেখেছিলেন, যাদের মধ্যে মুজিবুল্ল্যাহ আনসারিকেও পুলিশ বুধবার গ্রেপ্তার করেছে। মুজিবুল্ল্যাহর শিক্ষাগত যোগ্যতাও বেশ ভালো, রাঁচির এসএস মেমোরিয়াল কলেজ থেকে নিয়েছেন বাণিজ্যের ব্যাচেলর ডিগ্রি। মুজিবুল্ল্যাহর পরিবারের আশা ছিল তার জুটবে ভালো বেতনের চাকরি। কিন্তু মুজিবুল্ল্যাহর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো রাজনীতি। ২০০৯-১০ সালে সক্রিয় কাজ করেছেন স্থানীয় ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশনে’, এটি হচ্ছে জামায়াত-ই-ইসলামির তরুণদের সংগঠন। কিন্তু মুজিবুল্ল্যাহ আস্তে আস্তে সিমির জিহাদিদের দলে ভিড়ে যান।
ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’র (এনআইএ) দাবি সিদ্দিবাপা রাঁচিতে ইন্ডিয়ান মুজাহেদিনের কাজে সিমি’র একটি দলকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আদর্শিক মতভেদই এর কারণ। সাফদার নাগরি আবার বহুদিন ধরে বলে আসছিলেন যে তাদের ‘সুশৃঙ্খল’ ইসলামি বিদ্রোহের চিন্তা করা উচিত, বেসামরিক মানুষের উপরে আক্রমণ নয়।
এনআইএ’র ভাষ্যমতে মুজিবুল্ল্যাহ রাঁচির হিন্দিপাড়ার ইরাম লজের একটি রুমে বোমা বানানোর কাজটি করেন। এই বোমা পরে ব্যবহৃত হয়েছিলো বোধ গয়া মসজিদে ও মোদির জনসভায়।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাস তারা সর্বশেষ সক্রিয় জিহাদি দলটিকে ধংস করে দেবার পথে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সত্যি যে আরও নতুন দল উঠে আসছে। দক্ষিণ ভারতীয় ইসলামিক দলগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে গত (এপ্রিল) মাসের চেন্নাই-ব্যাঙ্গালুরুর ট্রেনে হামলার বিষয়ে।
জানা গেছে তামিলনাড়ুর কিছু ছাত্র সিরিয়াতে জিহাদিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ইন্ডিয়ান মুজাহেদিনের সাবেক অপারেটিভদের মধ্যে মির্জা শাদাব বেগ, শাহনেওয়াজ আলম, মুহম্মদ ‘বাদা’ সাজিদ, আলমজেব আফ্রিদি, শাফি আরমার আর সুলতান আরমাররা পাকিস্তানে নতুন বাহিনী খুলে প্রশিক্ষিত হচ্ছে। শিগগিরই এরা এই ‘যুদ্ধ ভারতের মাটিতে লড়তে চইবেন এটা নিশ্চিত।
আনসার-উল-তাওহিদের ভিডিওতে হুমকি দিতে দেখা যায় এইভাবে ‘‘ভারতীয় মুসলমানরা দুর্বল নয়, যোদ্ধারা আফগানিস্থানের মতো পবিত্র অঞ্চল থেকে এগিয়ে আসছে, আগেও যেভাবে ধংসযজ্ঞ চালিয়েছি আবারও তাই করে দেখাবো।’’ এই হুমকি ভারতের গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিৎ।

শেয়ার