টুঙ্গিপাড়ার অসীমের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রী হত্যার অভিযোগ॥ সর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যার ঘোষণা চিতলমারীর একটি পরিবারের

protarona
বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ ‘লোকটিকে দেখলে মনে হয় ভদ্র-বিনয়ী। যে কেউ সহজে বিশ্বাস করবে তাকে। কিন্তু বাস্তবে সে একজন ভয়ঙ্কর খুনি প্রতারক। এই প্রতারক আমাদের সবকিছু শেষ করেছে। আমার বোনকে হত্যা করেছে। চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার সহজ-সরল মা-বাবার কাছ থেকে হাতিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এখন আমাদের স্বপরিবারে আতœহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই’। অসীম হাজরা নামে এক ভয়ঙ্কর প্রতারকের প্রতারণার কথা এভাবেই সাংবাদিকদের কাছে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদ্যুৎ ঢালী নামে এক কলেজ ছাত্র। বিদ্যুতের গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া থানার ভৈরবনগর গ্রামে। বাবার নাম প্রহলাদ ঢালী। প্রতিকার না পেলে পরিবারটি আতœহত্যা করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ জানায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামে তার এক খালার বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে খালার এক প্রতিবেশি ওই গ্রামের (মৃত) অমৃত হাজরার পুত্র অসীম হাজরার সাথে বছর তিনেক আগে পারিবারিক ভাবে তাদের একটা সখ্যতা গড়ে ওঠে। অসীম নিয়মিত বিদ্যুৎদের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে এবং তাদের সাথে ধর্মআত্মীয়তা গড়ে তোলে। এ সুবাদে বিদ্যুতের একমাত্র বোন আদুরির সাথে অসীম গড়ে তোলে প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায় এসে অসীম আদুরিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অসীমের সংসারে স্ত্রী সন্তান থাকায় এতে আদুরি আপত্তি তুলে¬ সে তার বাড়ি-ঘর ও জায়গা-জমি আদুরির নামে লিখে দিতে হবে। এভাবে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আদুরিকে সে বিয়ের ফাঁদে ফেলে গড়ে তোলে অবৈধ সম্পর্ক। বছর খানেক আগে আদুরিকে নিয়ে আসীম ঢাকায় বাসাভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করে। ওয়াদামত অসীম আদুরির নামে লিখেও দেয় তার সমস্ত সম্পত্তি। এতে অসীমের প্রতি আদুরির পরিবারের বিশ্বাস জন্মে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসীম নতুন করে আরেকটি ফাঁদ পাতে। সে বিদ্যুতকে সরকারি চারির দেয়ার কথা বলে ঢাকায় ডেকে নেয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুতের হাতে তুলে দেয়া হয় চাকরির নিয়োগপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র। পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারি পদে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হবে বলে বিদ্যুৎকে জানানো হয়। এ সময় বিদ্যুতের সরল মা-বাবা অসীমের কথা বিশ্বাস করে ছেলের চাকরির জন্য বিভিন্ন দফায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। একমাত্র ছেলের সুখের কথা ভেবে সুদে-কর্যে ও সামান্য চাষাবাদের জমি বিক্রি করে এ অর্থ যোগাড় করেন তারা। কয়েকদিন যেতে না যেতে আসল তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। চাকরির জন্য ভুঁয়া নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎকে এবং আদুরির নামে যে সম্পত্তি লিখে দেয়া হয়েছে সে দলিলও ভুঁয়া। বিষয়টি জানতে পেরে আদুরি আসীমের উপর চাপ প্রয়োগ করলে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পথের কাটা সরাতে এ বছর ২৩ জানুয়ারী ঢাকা থেকে আদুরিকে নিয়ে আসীম তাদের বাড়ির উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। এদিন টুঙ্গিপাড়া কাকুই বুনিয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আদুরিকে হত্যা করে আসীম উধাও হয় বলে আদুরির পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় আদালতে একটি হত্যা মাললাসহ পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। সেই হতে আসীম লাপাত্তা। শ্যামপাড়া গ্রামের অসীমের বাড়ি ও আশপাশে খবর নিয়ে জানা যায়, সে এভাবে অসংখ্য ব্যক্তিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে একজন ভণ্ড প্রতারক। তার খপ্পরে পড়ে অনেকে সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন সর্বশান্ত। আদুরির বড় ভাই বিদ্যুৎ এই খুনি প্রতারকের বিচার দাবি করেন। কেউ যেন আর তার মত এই প্রতারকের ফাঁদে পা না দেয়। শ্যামপাড়া গ্রামের সঞ্জয় বৈরাগী জানান, চাকরি দেয়ার কথা বলে অসীম তার কাছ থেকেও টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। বার বার গিয়েও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি দিলীপ কুমার সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার