৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার এডিপি

Flyover
সমাজের কথা ডেস্ক॥ আগামী অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫) জন্য ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে সরকার, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ২০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বেশি।
এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ১৫৩টি প্রকল্পের বিপরীতে এবার এডিপিতে ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় বিশাল আকারের এই এডিপির অনুমোদন দেয়া হয়।
অনুমোদিত এডিপির মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা যোগান দেয়া হবে। আর প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব তথ্য জানান।
এডিপিতে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ছিল ৬৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। পরে এপ্রিল মাসে তা সংশোধন করে ৬০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
প্রথা অনুযায়ী অনুমোদিত এডিপির সঙ্গে সরকারের রাজস্ব খরচসহ অন্যান্য ব্যয় সংযোজন করে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী।
আগামী ৫ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।
এটা হবে নতুন সরকারের প্রথম এবং মুহিতের অষ্টম বাজেট। সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনার পর জুন মাসের শেষ দিকে তা পাশ হবে।
চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরেও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ব্যয় মূল এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪৭ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দুই শতাংশ কম।
২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ শতাংশ।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এডিপির জন্য ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার স্বায়ত্ত্বশাসিত বিভিন্ন সংস্থা/কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট ৮৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এক হাজার ১৮৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন এডিপি অনুমোদনের জন্য যে কার্যপত্র উপস্থাপন করা হয় তাতে বলা হয়, মোট বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে ৮৭৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৩৪টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, ২১টি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প এবং ১৫৩টি নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প।
নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বিহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন ৬৮৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বিদেশি সাহায্য প্রাপ্তির প্রত্যাশা থেকে বরাদ্দ ছাড়াই ২৭৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
চলতি অর্থবছরে ৩২৪টি প্রকল্প শেষ হবে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

লোটাস কামাল বলেন, “বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা ও আমাদের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে নতুন এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।”
পাঁচ বছরে এডিপির আকার প্রায় চার গুণ বাড়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি সে বছর এডিপির আকার ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। এখন সেই এডিপি বেড়ে ৮৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
“এতেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ আর আগের জায়গায় নেই। এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।”
বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ১১৮০ ডলার দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমাদের অর্থনীতির সূচকগুলো ক্রমাগত উপরের দিকেই উঠছে। কখনো নিম্নমুখী হয়নি।”
নতুন এডিপিতে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্ম সেতু নির্মানের জন্য আট হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে লোটাস কামাল বলেন, “জুন মাসে পদ্মা সেতুর ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হবে এবং আগামী অর্থ বছর থেকেই মূল সেতুর কাজ শুরু হবে। ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতু পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।”
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরাণ্বিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নানা ধরনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে টাকা আমরা বরাদ্দ দিচ্ছি তা যেন যথাযথভাবে ব্যয় হয়।”
প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারক করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব রোধ করা গেলে এর ব্যয়ও রোধ করা যাবে। এজন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। যাতে করে ২০২১ সাল নয়, ২০১৯ সালের মধ্যেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হই।”

শেয়ার