মাওলানা তাজউদ্দিনকে ‘বাদল’ নামে পাকিস্তান পাঠানো হয়

21 agost
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে হামলার জন্য মুফতি হান্নানকে গ্রেনেড সরবরাহকারী ও পরিকল্পনাকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে ‘বাদল’ নামে ভুয়া পাসপোর্ট দিয়ে পাকিস্তান পাঠানো হয়।

ভুয়া পাসপোর্ট ও বাংলাদেশ বিমানে করাচি যাওয়ার টিকিট এবং একটি বোর্ডিং কার্ড মেজর মনিরের হাতে দেন লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোর্য়াদার।

এরপর তাজউদ্দিনকে বিমানে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর মনির ও লে. কমান্ডার মিজানকে। বিমানবন্দরে ডিজিএফআই-এর লোকদের সহায়তায় তাকে করাচিগামী বিমানে তুলে দেন তারা।

তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা এসব কাজ করেছিলেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ডিজিএফআই-এর সাবেক কর্মকর্তা মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ মনিরুল ইসলাম সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালকে এসব কথা জানান।

সাক্ষে তিনি বলেন, ঘটনার প্রায় ২ বছর পর ২০০৬ সালে ঢাকা ডিজিএফআই-এর সিটিআইবি’তে যোগদান করেন তিনি। তাদের দায়িত্ব ছিল সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে তথ্য সংগ্রহ করা।

২০০৫ সালের অক্টোবরে র‌্যাবের হাতে আটক হলে টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার কথা স্বীকার করেন মুফতি হান্নান। গ্রেনেডগুলো তাকে তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোটভাই মাওলানা তাজউদ্দিন সরবরাহ করেছেন বলেও জানান তিনি।

মেজর মনির টিএফআই সেল থেকে এসব তথ্যের বিষয়ে অবগত হন।

তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে মাওলানা আব্দুস সালাম ও মাওলানা তাজউদ্দিনকে ডিজিএফআই-এর কার্যালয়ে আনা হয়।

ডিজিএফআই-এর সেফ হোমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোর্য়াদার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মাওলানা তাজউদ্দিন ২১আগস্টে তার হরকাতুল জিহাদের অন্যান্য সদস্যরা গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে তিনি জানতে পারেন।

জিজ্ঞাসাবাদের পর লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন মোবাইলে কিছুক্ষণ আলাপ করেন। পরে এসে তারা পরস্পর বলাবলি করেন মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের কথা জানান।

সাক্ষ্যে মেজর মনির জানান, এর দুইদিন পর মাওলানা তাজউদ্দিনের ছবি দিয়ে ‘বাদল’ নামের পাসপোর্ট ও বাংলাদেশ বিমানে করাচি যাওয়ার টিকিট এবং বোর্ডিং কার্ড তার হাতে দেন লে. কর্নেল সাইফুল।

তিনি তাজউদ্দিনকে বিমানের তুলে দেওয়ার দায়িত্ব দেন তাকে ও লে. কমান্ডার মিজানকে।

বিমানবন্দরে ডিজিএফআই-এর লোকজনের সহায়তায় তারা মাওলানা তাজউদ্দিনকে করাচিগামী বিমানে তুলে দেন।

মেজর মনির জবানবন্দি দেওয়ার পর পলাতক ১৫ আসামির জেরা না থাকায় তাকে জেরা করবেন না বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

অন্যান্য আসামিদের জেরার জন্য আগামী ২৬ ও ২৭ মে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহেদ নুরুদ্দিন।

মঙ্গলবার মামলাটির ৮৪তম সাক্ষী হিসাবে মেজর মনির এ সাক্ষ্য দেন। দুপুর ১২টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর একটানা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী এজলাসে এ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।

এ মামলায় মোট ৫৮২ জন সাক্ষী আছেন। আসামি রয়েছেন ৫২ জন।

মামলায় খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।

অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫জনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন!

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়।

সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

শেয়ার