ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতাকে গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা

gari
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফেনী শহরে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে গুলিবর্ষণ ও ছুরিকাঘাতের পর গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে ফুলগাজীর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হককে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জেলা শহরের একাডেমি এলাকায় বিলাসী প্রেক্ষাগৃহের সামনে নিহত একরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন।
একরামের সঙ্গে গাড়িতে থাকা এক সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর জেলা শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, বন্ধ হয়ে গেছে শহরের ভেতরে সব ধরনের গাড়ি চলাচল। বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ, কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করেছে।
একরাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফুলগাজীতে তার সমর্থকদের অবরোধে বন্ধ হয়ে রয়েছে জেলার সঙ্গে পরশুরাম উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, একরাম সকালে শহরের মাস্টারপাড়ায় নিজের বাসা থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে ফুলগাজীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।
একরামের সঙ্গে ছিলেন ফুলগাজীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সম্বু চেয়ারম্যান, একরাম সম্পাদিক দৈনিক ফেনী প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মুহিব উল্লাহ ফরহাদ।
একাডেমি এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের সামনে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত একটি ভ্যান দিয়ে একরামের গাড়িটি আটকে ফেলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
হামলাকারীরা কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটালে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হামলাকারীরা একরামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
গাড়িতে আগুন দেয়ার আগে সম্বু চেয়ারম্যান, ফরহাদ ও গাড়িচালককে বের করে এনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।
ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-সার্কেল) সামছুল আলম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, হামলার খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে গাড়ির ভেতরে একরামের অগ্নিদগ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দমকল বাহিনী এসে আগুন নেভায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,একরামের হলুদ রঙের প্রাইভেট কারটি পুড়ে গেছে, তার লাশ পড়ে আছে গাড়ির দরজার পাশে। লাশটি পুড়ে এতটাই বিকৃত হয়েছে যে চেনার জো নেই।
পুলিশ একরামের লাশটি গাড়ি থেকে বের করে আনার পর ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
একরাম হত্যাকাণ্ডের খবরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে কয়েকটি গাড়ি ও দোকান ভাংচুর করে। এরপর শহরে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা আওয়ামী লীগ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এর মধ্যে একদল নেতা-কর্মী দুপুর ৩টার দিকে মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা শহরে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
এদিকে একরাম সমর্থকরা ফুলগাজীতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রেখেছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছে।

ফুলগাজীতে একরামের খুনিদের
গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হককে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনা এই নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
সকালে ফেনী শহরের বিলাসী প্রেক্ষাগৃহের সামনে গুলি চালানোর পর গাড়িতে আগুন দিয়ে একরামকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীবাসীর পাশাপাশি সমগ্র দেশবাসীকে এই হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, একরামুল হক অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন তরুন নেতা। ফুলগাজীকে একটি আধুনিক উপজেলায় পরিণত করতে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ।
“যারা দেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী, যারা হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতে চায় সেই দেশবিরোধী অশুভ শক্তিই একরামুল হককে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে।”
শেখ হাসিনা একরামের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশ্বাস দেন।

শেয়ার