সুন্দরবনে মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হত্যা মামলার রায় ॥ ইউপি চেয়ারম্যান আতাহারসহ ৪ জনের ফাঁসি॥ ৬ জনের যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ

rai
বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের মংলায় আলোচিত মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতাহারসহ ৪ বনদস্যুকে ফাঁসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রোববার দুপুরে জনার্কীন আদালতে ৫ জন আসামির উপস্থিতিতে বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃতূদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাগেহরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার হোসেন তরফদার,্ কাটাখালী এলাকার বজলু গাজীর ছেলে বাবুল গাজী, ডেমা ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে কালাম ওরফে কামাল, বাচ্চু ও রামপাল উপজেলার রনজয় গ্রামের কদম আলীর পুত্র বাচ্চ্।ু
মামলার বিবরনে জানা যায় ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর মংলা উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হাওলাদার তার দ্ইু সহযোগী রফিকুল ও শুকুর আলীকে নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। ওই দিন বিকেলে সুন্দরবনের খালে মাছ শিকারের সময় আসামীরা তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে মাছ ব্যবসায়ী ডাকাত দলের মধ্যে বাবুলকে চিনে ফেলে তার নাম ধরে ডাক দিতেই বনদস্যূ বাবলুকাজি ইলিয়াসকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ইলিয়াসের দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেয়। এ সময়ে নৌকায় থাকা ইলিয়াসের দুই সহযোগী রফিকুল ও শুকুর আলী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সুন্দরবনের গহীনে আত্মগোপন করে প্রানে রক্ষা পায়। ইলিয়াসের দুই সহযোগী মংলায় ফিরে তাদের পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এই ঘটনায় ২৫ নভেম্বর নিহত ইলিয়াসের পুত্র সাইফুজ্জামান প্রিন্স বাদি হয়ে মংলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ২০০২ সালের ৪মে বাগেরহাট সিআইডির পরিদর্শক নজরুল ইসলাম আসামিদের ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। আদালত দীর্ঘ শুনানী ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রোববার দুপুরে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি আতাহার আলী তরফদার ও যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ৪ আসামির উপস্থিতেতে এই রায় প্রদান করেন। যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হল ডেমা ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামের কাশেম সেখের ছেলে শহীদুল সেখ, কাশেমপুর গ্রামের আরব আলীর ছেলে ইশারাত ওরফে ইশা, কালিয়া গ্রামের মাজেদ মোল্লার ছেলে ফরহাদ মোল্লা, পিসি ডেমা গ্রামের ইকবাল সেখের ছেলে ফারুক মাস্টার, কাশেমপুর গ্রামের ইস্রাফিল ডাকুয়ার ছেলে শানু ডাকুয়া ও রামপাল উপজেলার তেলিখালী গ্রামের রাহেন উদ্দিনের ছেলে আ: হাকিম সেখ।

শেয়ার