কারিগরী প্রশিক্ষণে পাল্টে গেছে আক্তারুলের জীবন

MAIT Jessore Akter
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ‘কারিগরি শিক্ষা নিলে দেশজুড়ে কর্ম মেলে’ এই শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছেন শার্শার আক্তারুল ইসলাম। অবসান ঘটেছে তার বেকারত্বের। দূর হয়েছে সংসারের অভাব। পিতামাতার ভরণ পোষণের পাশাপাশি তিনি এখন নিজেই নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করছেন। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে। তিনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এমএআইটি যশোর ক্যাম্পাস থেকে ফ্রি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
যশোরের শার্শা উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আক্তারুল ইসলাম। উচ্চ মাধ্যমিকের লেখাপড়া শেষ করার পর অভাব অনটনে লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয় আক্তারুলের। দরিদ্র পিতা বজলুর রহমানের পক্ষে ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু আক্তারুল হার মানার ছেলে নয়। সে বেরিয়ে পড়ে জীবন আর জীবিকার সন্ধানে। এমন সময় সে এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সন্ধান পায় মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি – এমএআইটি যশোর ক্যাম্পাসের। বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়ার পর গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সেশনে ২৩ তম ব্যাচে মুসলিম এইড ইকো ইউএসএর আওতায় ফ্রি প্রশিক্ষণ কোর্সের আওতায় ৬ মাস মেয়াদী ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলরিং কোর্সে ভর্তি হন আক্তারুল। ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর আইরিন আক্তার ও আব্দুল কুদ্দুসের তত্বাবধানে আক্তারুল ইসলাম সফলভাবে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন এবং জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। প্রশিক্ষণ শেষে আক্তারুল ইসলাম যশোর সরকারি এম এম কলেজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আসমা টেইলার্সে পার্ট টাইম কাজ নেন। এরপর ওই টেইলার্সের পাশে একটি ছোট্ট দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। মুসলিম এইডের যান্ত্রিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আক্তারুল সুইং মেশিনের পাশাপাশি একটি এম্ব্রয়েডারি মেশিনও ক্রয় করেন। এসব আধুনিক যন্ত্রপাতিকে পুঁজি করে আক্তারুল ইসলাম খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সার্থকতা। কাজের পাশাপাশি আক্তারুলের ইচ্ছা লেখাপড়া শেষ করা। তাইতো তিনি মনিরামপুর ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন। কাজ আর লেখাপড়া দুটোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন আক্তারুল। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি মাসে সব রকমের খরচ খরচা বাদে তার আয় হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। যা দিয়ে সে তার নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে মা বাবা ভাই বোনকে সাহায্য করতে পারছেন। তার এই আত্মপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র তৈরীতে সহায়তার জন্য তিনি মুসলিম এইড ও ইকো ইউএসএ কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার