হ্যান্ডকাফ পরা রানাকে জুতা নিক্ষেপ

rana
সমাজের কথা ডেস্ক॥
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম এম রানাকে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির সাবেক ইনচার্জ রানাকে আদালতে আনা হলেও আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় বিক্ষুব্ধ আইনজীবিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ ও থুথু ছোড়েন। এছাড়া রিমান্ড শুনানির সময়ে তার ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ করেন লোকজন।
এম এম রানাকে গ্রেফতার করা হয় শনিবার দিনগত রাত ২টায়। ঢাকার সেনানিবাস এলাকা থেকে মিলিটারি পুলিশ ও ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ নৌ-বাহিনীর গোয়েন্দাদের সহায়তায় আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে তাকে মাসদাইর এলাকার নারায়ণগঞ্জ পুলিশলাইনে রাখা হয়।
রানাকে অপর দুই চাকরিচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ ও মেজর আরিফ হোসেনের মতো সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সন্দেহনজনক (৫৪ ধারায়) গ্রেফতার দেখানো হয়। রোববার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান ৭ খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালত।
একই আদালতে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতারকৃত মহিবুল্লাহ রতন নামের একজনকেও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে একই আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রানাকে আদালতে আনার সময় বিচারকের এজলাসের বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন আইনজীবীরা। তারা ‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই, খুনি র‌্যাবের ফাঁসি চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অপহৃত, গুম ও অপহরণের ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনেরাও বিক্ষোভ করতে থাকেন। আদালতে শুনানি শেষে আদেশের আগে বিক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। পরে রানাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর শেষে যখন বের করা হয়, তখন উত্তেজিত জনতা রানাকে লক্ষ্য করে জুতা ও থুথু ছোড়েন।
রানাকে যখন আদালতে আনা হয় তখন তার গায়ে ছিল কফি রঙয়ের হাফ হাতা শার্ট, জিন্সের প্যান্ট ও কালো রঙয়ের সু জুতা। আদালতে রানা বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হলেও তার হাতে আগে থেকেই হাতকড়া পরানো ছিল। যদিও শনিবার র‌্যাবের চাকরিচ্যুত ২ কর্মকর্তার হাতে প্রথম অবস্থায় কোনো হ্যান্ডকাফ ছিল না। পরে বিক্ষোভের মুখে তাদেরকে হাতকড়া পরানো হয়।
আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় আইনজীবীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৭ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা দেবেন না তারা। রোববার আদালতে র‌্যাবের চাকরিচ্যুত এম এম রানাকে হাজির করা হলেও শুনানিতে বিবাদীপক্ষে কোনো আইনজীবি ছিলেন না।
অপর দুইজনের মতো রানাও নিজেকে একেবারে নির্দোষ দাবি করেন আদালতে। তিনি আদালতে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত না। আমাদের র‌্যাবের কার্য্যক্রম ভাগ করা আছে। আমার এলাকা নারায়ণগঞ্জ শহর। কিন্তু ঘটনাটি শহরের বাইরে। আমার কোম্পানির সদস্যও এ ঘটনায় জড়িত না’।
শুনানি শেষে বিকেল ৫টায় রানাকে আবারো কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশলাইনে নেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডে এখানেই অপর দুইজনের মতো এম এম রানাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এর আগে শনিবার ভোররাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে একই ঘটনায় অভিযুক্ত র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনি রুপমের আদালত প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দু’জনের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের দোকানের কর্মচারী কামাল হোসেনকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার