সাফল্যের জোয়ারে এসএসসি উত্তীর্ণদের উল্লাস ॥পাসের হার : যশোর : ৯২.১৯, ঢাকা : ৯৩.৯৪, চট্টগ্রাম : ৯১.৪০, সিলেট : ৮৯.২৩, বরিশাল : ৯০.৬৬, কুমিল্লা :৮৯.৯২, দিনাজপুর : ৯৩.২৬, রাজশাহী: ৯৬.৩৪

ssc copy
সমাজের কথা ডেস্ক॥
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যাতে গড় পাস করেছে ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সব বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে শনিবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতে কেউ ফেল করবে না।
প্রকাশিত ফলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে ৮৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে ৯০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ৮৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ৯৩ দশমিক ২৬ শতাংশ, যশোর শিক্ষাবোর্ডে ৯২ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ৯৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ডিআইবিএস-এ ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর এ বছর রাজশাহী বোর্ড পাসের হারে ইতিহাস তৈরি করেছে। এমন ঈর্ষণীয় সাফল্য এর আগে কখনও আসেনি।
১৯৭১ সালে একবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার উঠেছিল ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশে।
এবার বিভিন্ন বোর্ডে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ৯২টি।
এবছর এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি বোর্ডে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩৩১ জন।
৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬১ জন ছেলে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাসের হার ৯১.৮৪ শতাংশ।
এছাড়া ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৯০.৮১ শতাংশ।
দুপুর ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বেলা ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং ইন্টারনেট থেকে ফল সংগ্রহ করেছে।
ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে িি.িবফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ শীর্ষক ওয়েবসাইটে।

এছাড়া যে কোনো মোবাইলে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে সাধারণ বোর্ডের জন্য ঝঝঈ ও মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য উধশযরষ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে পাসের সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

যেমন: (ঝঝঈ উযধ ১২৩৪৫৬ ২০১৪ ধহফ ংবহফ ঃযব ংসং ঃড় ১৬২২২).

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলে মার্চ ২২ পর্যন্ত। এতে মোট ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৭২৭ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

২০১৩ সালে এসএএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ছিলো ৮৯ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ হাজার ২২৬ জন।

গত কয়েক বছরে ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হলেও এবার প্রকাশ হলো ৫৮তম দিনে।

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, এবারের ফলাফলে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, ফলাফলের বিভিন্ন সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রায় আট হাজার স্কুলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নেওয়ায় পশ্চাত্পদ স্কুলগুলোতেও ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বুঝতে এবং উত্তর দিতেও সহজ হচ্ছে। আর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম শিক্ষার্থীদের স্থান প্রসারিত করেছে।

এসব কারণেই ফল ভালো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ।

তবে এবারও কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এবারও দেশসেরা হয়েছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মোট পরীক্ষার্থীর ৫১৫ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৫০৮ জন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো দেশসেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলো প্রতিষ্ঠানটি।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিলে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ঝালকাঠী এন এস কামিল মাদ্রাসা। এর পরেই ৮৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট পেয়ে ২য় স্থানে রয়েছে গাজীপুরের তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী শাথা।

এসএসসি ভকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করেছে খুলনা খালিশপুরের ইউসেপ মহসিন টেকনিক্যাল স্কুল। তাদের পয়েন্ট ৯০ দশমিক ৫৪। এই স্কুলের ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সকলেই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শেয়ার