লা লিগার শিরোপা আতলেতিকোর

Madrid
সমাজের কথা ডেস্ক॥ পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনাকে রুখে দিয়ে লা লিগার চ্যাম্পিয়ন হলো আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১-১ গোলের ড্রতে ক্যাম্প নউকে স্তব্ধ করে দিয়ে যোগ্যতর দল হিসেবেই শিরোপা জিতলো এ মৌসুমের চমক জাগানো দলটি।

এটা আতলেতিকোর দশম শিগ শিরোপা। এর আগে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আতলেতিকো। সেবার ভিসেন্তে কালদেরনের ক্লাবটিতে খেলা দিয়েগো সিমেওনেই এখন কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জেতালেন।

শনিবার অ্যালেক্সিস সানচেসের প্রথমার্ধের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দিয়েগো গদিনের গোলে সমতা ফেরায় আতলেতিকো। ১৮ বছর পর শিরোপা জয়ের জন্য এই একটা পয়েন্টই দরকার ছিল তাদের।

২০০৩-০৪ মৌসুমের পর রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা ছাড়া ফের নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন পেল লা লিগা। ১০ বছর আগের ঐ মৌসুমে শিরোপা জিতেছিল ভালেন্সিয়া। এরপর থেকে কখনও রিয়াল আবার কখনও বার্সেলোনাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

তৃতীয় শক্তি হিসেবে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব গড়তে ড্র করলেই চলত আতলেতিকোর। তবে সে লক্ষ্যে শুরুতেই বড় দুটি ধাক্কা খায় মৌসুমের চমক জাগানো দলটি।

পায়ের পেশীর চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে দলে ফিরেছিলেন দলটির মূল ভরসা দিয়েগো কস্তা। কিন্তু ১৪ মিনিট খেলা হওয়ার পরই তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ দিয়েগো সিমেওনে। আর ২৩তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আতলেতিকোর মিডফিল্ডার আরদা তুরান। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ‘ফাইনালে’ রক্ষণাত্মক খেলা শুরু করে আতলেতিকো।

শিরোপা ধরে রাখতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প নউতে জিততেই হতো বার্সেলোনাকে। সে লক্ষ্যে প্রথমদিকে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ৩৪তম মিনিটে আলেক্সিস সানচেসের অসাধারণ এক গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেস ফ্যাব্রেগাসের উচু পাস ডি বক্সের মাঝে বুক দিয়ে নামিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর তা থেকে বল পেয়ে কেউ কিছু বোঝার আগেই দুর্দান্ত এক শটে গোলপোস্টের উপরের ডান কোণা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন চিলির এই স্ট্রাইকার।

বিরতির খানিক আগে গোল পরিশোধের দুটো সুযোগ পেলেও আতলেতিকোর আক্রমণভাগ তাতে সাফল্য পাইনি।

তবে পুরো মৌসুম জুড়ে দাপট দেখানো আতলেতিকোকে বিরতির পর আর রুখতে পারেনি জেরার্ড পিকে-দানি আলভেসরা। কোচ সিমেওনের মন্ত্রে উজ্জীবিত আতলেতিকো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই বার্সেলোনার সাবেক স্ট্রাইকার দাভিদ ভিয়ার শট পিন্তোকে ফাঁকি দিলেও বল ফিরিয়ে দেয় গোলপোস্ট। তবে তিন মিনিট পরেই সমতা ফেরায় আতলেতিকো। ডান প্রান্ত থেকে কোকের কর্নারে জোরালো হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার দিয়েগো গদিন।

১-১ সমতার পর আবারো রক্ষণভাগ সামলাতে জোর দেয় আতলেতিকো। ফলে আক্রমণে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে স্বাগতিকরা। ৬২তম মিনিটে আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ জেরার্দো মার্তিনো অনুজ্জ্বল পেদ্রোর বদলি হিসেবে মাঠে নামান চোট কাটিয়ে ফেরা ব্রাজিলের তারকা নেইমারকে। পরের মিনিটেই ছয় গজ বক্সের মাঝ থেকে দারুণ এক ভলিতে বল জালে পাঠিয়েছেলেন মেসি। কিন্তু পরিষ্কার অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

নির্ধারিত সময় শেষের আট মিনিট বাকি থাকতে ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন দানি আলভেস। বল লক্ষ্যে থাকলেও লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকোর গোলরক্ষক করতোয়া।

দুই মিনিট পর সতীর্থ আদ্রিয়ানোর ক্রসে ডি বক্সের মাঝে হেড করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার গদিনের গায়ে ধাক্কা লেগে পড়ে যান পিকে। তাতে বার্সেলোনার পেনাল্টির আবেদনে রেফারি সাড়া দেননি।

এরপর ম্যাচের সময় যত ফুরোতে থাকে ততই মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। তবে শিরোপা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গোলটি আর আদায় করতে পারেনি জেরার্দো মার্তিনোর দল।

১৯৫১ সালের পর এই প্রথম শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে শেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হলো। সেবার সেভিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে শিরোপা জিতেছিল আতলেতিকো। এবারও বার্সেলোনাকে পেছনে ফেলে শিরোপা নিজেদের করে নিল আতলেতিকো।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্প নউয়ের প্রায় এক লাখ বার্সেলোনা সমর্থকের কোলাহলকে ছাড়িয়ে গেল পাঁচশ’র মতো আতলেতিকো ভক্তের গর্জন।

৩৮ ম্যাচে ৯০ পয়েন্ট পাওয়া আতলেতিকোর চেয়ে ৩ পয়েন্ট করে কম পেয়েছে দুই পরাশক্তি। তবে গোল পার্থক্যে রিয়াল মাদ্রিদকে ছাড়িয়ে রানার্সআপ বার্সেলোনাই। ২০০৭-০৮ মৌসুমের পর এই প্রথম শূন্য হাতে মৌসুম শেষ করল দলটি।

শেয়ার