ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার, মৃত ৫৫

Munshiganj
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এম ভি মিরাজ ৪ উদ্ধার হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর ৫৫টি লাশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে পরিচয় মিলেছে ৫৪ জনের।
অপর লাশটি উদ্ধার করা হয় অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, যার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার বেলা সোয়া ৩টায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল সংবাদ ব্রিফিংয়ে উদ্ধার কাজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুরের কাছে ঝড়ে মেঘনা নদীতে প্রায় আড়াই শ যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ঢাকা থেকে শরীয়তপুরগামী লঞ্চ এমভি মিরাজ ৪।
আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসক বলেন, এখনো সাত জন নিখোঁজ রয়েছে। সকল নিখোঁজদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন মেঘনা নদী ও এর আশপাশে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এর আগে সকাল ৯টায় লঞ্চটি তীর থেকে ২০ গজ দূরে কাত হয়ে থাকা অবস্থায় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ে হামলা চালায়।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলে পরিস্থতি শান্ত হয়।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে নিখোঁজ সাত জন হলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দরিচর গ্রামের প্রয়াত ফালান সরদারের ছেলে আনসার উদ্দিন সরদার (৬০), শরীয়তপুরের নড়িয়ার ব্রজেশ্বরের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মূসা শেখ (২৬), মগর গ্রামের প্রয়াত মগবুল ছৈয়ালের দুই ছেলে আবু কালাম ছৈয়াল (৪৫) ও রাজিব ছৈয়াল (২২), দক্ষিণ চাকধ গ্রামের প্রয়াত আবু কালাম চৌকিদারের ছেলে মো. সজিব চৌকিদার (২৪), নন্দনসার গ্রামের মো. হাকিম হালদারের ছেলে কাঞ্চন হালদার (৩৫) ও ঢাকার নাবাবগঞ্জের হরিকান্দা গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে কল্পনা আক্তার (১৩)।
বেলা দেড়টা। এমভি মিরাজ-৪ পুরোপুরি পানির উপর ভেসে ওঠার পর লাশের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৫৫ হয়ে গেল। এরমধ্যে ৫৪টি উদ্ধার হয় জাহাজের ভেতর থেকে এবং একটি পাওয়া যায় নদীতে।
একটি করে লাশ উদ্ধার হচ্ছিল, আর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাচ্ছিলেন স্বজনরা। প্রিয়জনের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এ সময় উপস্থিত সবাই আবেপ্রবন হয়ে পড়ে।
অভিযান সমাপ্তের পর গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মাহবুব করিম জানান, ৫৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে যাব। স্বজনদের লাশ প্রতি ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
৩০ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী এবং ১১ জন শিশুর লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সন্ধ্যায় গজারিয়া থানার ওসি মো. ফেরদৌস জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মেঘনায় ভাসমান অবস্থায় একটি পাওয়া যায়, যার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

শেয়ার