খরচ সাশ্রয়ী উফশী ধান ব্রি-৫৮ উদ্ভাবন

Rice
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বোরো মৌসুমে ফসলের প্রধান সমস্যা ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। এতে আবদকৃত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকদের এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে দুর্যোগ সহিষ্ণু একটি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। টিস্যু কালচার (বায়োটেকনলজি) পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল (উফশী) এই ধানের নাম দেয়া হয়েছে ব্রি-৫৮। এই ধানের উদ্ভাবক হলেন ব্রি কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তমাল লতা আদিত্য। তার উদ্ভাবিত ১০ প্রকার উফশী ধানের মধ্যে এটি একটি।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রতেœশ্বরপুর ড. তমাল লতার নিজস্ব গ্রাম। তিনি ডা. তপন কান্তি সরকারের সহধর্মিনী। এই গ্রামের তাপস কান্তি সরকারের জমিতে এবারের বোরো মৌসুমে ব্রি-৫৮ ধানের চাষ করা হয়। ফলন হয়েছে বিঘায় ৩০ মণ।
ড. তমাল লতা জানান, তার পিএইচডি গবেষণার সূত্র ধরে তিনি ধানটি উদ্ভাবন করেন। তিনি ২০০০ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভূক্ত ওয়াই কলেজে গবেষণা শুরু করেন। ২০১২ সালে দেশে চাষাবাদের জন্য ধানটি অবমুক্ত করা হয়।
ড. তমাল লতা জানান, খরচ সাশ্রয়ী ব্রি-৫৮ চাষে বিঘা প্রতি ইউরিয়া সার ১০ কেজি কম লাগে। এই ধানটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গাছ শক্ত হওয়ায় অন্য জাতের ধানের মতো ঝড় বৃষ্টিতে হেলে পড়ে না। ফুল আসার সময় ধান গাছ হেলে পড়লে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ধান কাটার মজুর খরচও বেশি পড়ে। কিন্তু ব্রি-৫৮ জাতের ধান গাছ ঝড় বৃষ্টিতে হেলে পড়ে না বলে কোনো চিটা হয় না এবং ধান কাটার মজুর খরচ তুলনামূকভাবে কম হয়। শিলাবৃষ্টিতে শীষ থেকে ঝরে পড়ে না একটি ধানও।
এছাড়া চারার বয়স দুই মাস হয়ে গেলেও ধান রোপণ করা যায়। তাতে ফলনের কোনো ঘাটতি হয় না। এর ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু।
গত ১৩ মে রতেœশ্বরপুর মাঠে আবাদকৃত ব্রি-৫৮ ধান আনুষ্ঠানিকভাবে কাটা হয়। সেখানে উদ্ভাবক ড.তমাল লতা আদিত্য নিজেই উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক শেখ হেমায়েত উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার