আবারও তাপমাত্রার শীর্ষে যশোর

tapmattra
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার এই জেলার ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এবছর গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকেই তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৩ ডিগ্রির সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। বারবার রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রায় প্রাণিকূলে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলায় এই তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে মতে এই বিভাগের বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও মাগুরাছাড়া প্রত্যেক জেলার তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। বাগেরহাট জেলাতে গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ২, সাতক্ষীরায় ও মাগুরায় ৩৯ দশমিক ৬, চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৭, ঝিনাইদহ ও খুলনায় ৪০ দশমিক ৭, কুষ্টিয়া ৪১ দশমিক ৩ ও নড়াইলে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অব্যাহত সীমাহীন উত্তাপে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রাণীকূল। এক পশলা বৃষ্টিবিহীন প্রকৃতির মাঝে এ অঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। কৃষক, মজুর, রিকসা চালক, কর্মজীবি, চাকরিজীবি এমনকি প্রাণীকূল উত্তাপে কাহিল হয়ে পড়েছে। যশোর অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় চিহ্ণিত করেছেন পরিবেশবিদেরা। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভৌগলিকভাবেই যশোরের দেশের শুষ্কতম অঞ্চল। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে দেশের শুষ্কতম অঞ্চল হিসেবে এ জনপদের মানুষ শিকার হচ্ছেন।
যশোর অঞ্চলের পানির উৎস নদ, নদী, খাল, বিল ও পুকুরের অধিকাংশ শুকিয়ে গেছে। একই সাথে অতিরিক্ত সেচ ও খাবার পানি সরবারহের ফলে ৩০-৩৫ ফুট পানি স্তর নেমে গেছে। নানাবিধ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। এই সংকটের মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘর ও ঘরের বাইরে মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে যশোর সরকারি এমএম কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: আব্দুল হাই বলেন, বাৎসরিক গড় তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ভিত্তিতে যশোর, খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের শুষ্কতম অঞ্চল। যশোরের অবস্থান বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চলে। গ্রীষ্মকালে মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ দিক থেকে আসে। এরপর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে মৌসুমী বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক প্রবাহিত হয়। এসময় মৌসুমী বায়ু সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে বৃষ্টিপাত হয়। ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পর অবশিষ্ট মেঘ পশ্চিম অঞ্চলে আসার পর তাপমাত্র বৃদ্ধি পেলে ঘনীভ’ত হতে পারে না। ফলে বৃষ্টি হয় না। তবে এপ্রিল মাসে ৬০-৭০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এবার এপ্রিল মাসে মোটেই বৃষ্টি হয়নি। ফলে যশোর অঞ্চলের উত্তাপ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রিণ হাউজ ইফেক্ট, নগরায়ন, কল-কারখানা নির্মাণ,জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবাহার বৃদ্ধিতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বেশি নির্গত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশের মত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশের শুষ্ক অঞ্চলের বেশি তাপ পড়ছে।

শেয়ার