সওজের গাছ বিক্রির ঘাপলা তদন্তে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব যশোরে

gaas
তবিবর রহমান ॥
বৃহত্তর যশোরের বিভিন্ন মহাসড়কের কয়েক কোটি টাকার জীবত শতবর্ষী রেইন্ট্রি গাছ মৃত দেখিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সাথে দ্বন্দ্বের সুযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বৃক্ষপালনবিদরা ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে মৃত গাছের দরপত্রের বিপরীতে জীবত গাছ কাটার কার্যাদেশ দিয়েছে। যশোর জেলা পরিষদ গাছের মালিকানা পাওয়ার পর অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি গাছের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম পেয়েছে। সম্প্রতি এসব অনিয়ম সরকারের উচ্চ মহলে লিখিতভাবে জানানো হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে যোগাযোগ সচিব আজ শুক্রবার যশোরে আসছেন। তিনি জেলা পরিষদ, সওজ, ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবেন।
জানা যায়, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-খুলনা, যশোর-মাগুরা, যশোর-নড়াইলসহ এ অঞ্চলের মহাসড়কের পাশে থাকা শত বছরের রেইন্ট্রি গাছ নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যশোর জেলা পরিষদের সাথে সওজের রশিটানাটানি চলছিলো। এ সুযোগে সওজ’র রাজশাহী জোনের বৃক্ষপালন বিভাগ ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মৃত শিশু গাছ, মেহগনি গাছ ও শেগুনগাছ ইত্যাদি বিক্রয়ের নামে দরপত্র আহবান করে কয়েক কোটি টাকা দামের রেইট্রি গাছ কেটে নিয়েছে। মালিকানা জটিলতার কারণে যশোর জেলা পরিষদ এতদিন লুটপাটের ঘটনা এতটা না জানলেও সম্প্রতি অনিয়মের একটি খতিয়ান তৈরি করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, যোগাযোগ সচিবসহ সরকারের উচ্চ মহলে লিখিতভাবে জানিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সওজ’র বৃক্ষপালন রাজশাহী অফিস থেকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৬তম কিলোমিটারে দুটি মরা মেহগনি গাছ বিক্রির দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু ওই বছরের ১০ মার্চ যে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে এতে পরিপক্ক মেহগনি গাছ হিসেবে উল্লেখ করে কেটে নেয়া হয়েছে। ২০০৩ সালের ১১ জুন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ২৩তম কিলোমিটারে একটি মৃত মেহগনি গাছ, ২৪তম কিলোমিটারে একটি মৃত শিশু গাছ, ২৬তম কিলোমিটারে একটি মৃত একটি মেহগনি গাছ বিক্রিয়ের দরপত্র আহবান করা হলেও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২৭তম কিলোমিটারে দুটি রেইট্রি গাছের। এখানে কার্যাদেশের সাথে বিজ্ঞপ্তির মিল নেই। ২০০২ সালের ১২ আগস্ট ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে ২৪ কিলোমিটারে তিনটি এবং ২৬তম কিলোমিটারে একটি মোট ৪টি মরা শিশু গাছ নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও চারটি পরিপক্ক রেইন্ট্রি গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কে তিনটি মরা মাথাকাটা মেহগনি গাছ বিক্রির দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারকে চারটি পরিপক্ক রেইন্ট্রি গাছ কাটার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এভাবে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন মহাসড়কের ধার থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে লুটপাট করেছেন সওজের বৃক্ষপালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তারা একাজ করতে একই ঠিকাদারকে বারবার কার্যাদেশ দেন। জেলা পরিষদের অনিয়ম প্রতিবেদনে দেখা গেছে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার এনামুল কবির নামে এক ব্যক্তিকে বারবার গাছ কাটার কার্যাদেশ দেয়া হয়। বারবার একই ব্যক্তিকে কার্যাদেশ দেয়ার পেছনে সওজের কর্মকতারা দুর্নীতিতে জড়িত বলে মনে করছেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা। এবিষয়ে সওজের সহকারী বৃক্ষপালনবিদ জাকির হোসেন বলেন, ঠিকাদাররা হাহকোর্টে রিট করে তাদের পক্ষে রায় নিয়ে আসায় তারা কার্যাদেশ দিয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে এ পদে যোগ দিয়েছেন। তাই দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান। তবে যোগাযোগ সচিবের সাথে শুক্রবার তাদের বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

শেয়ার