মেঘনায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ২৯ লাশ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ শতাধিক

megna
সমাজের কথা ডেস্ক॥ মেঘনায় দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ ‘মিরাজ’ থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ২৬ ঘণ্টা পর দৃশ্যমান হলেও দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে না উদ্ধার কাজ। বাংলানিউজকে এমনটাই জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামছুদ্দোহা খন্দকার।
তিনি জানান, মেঘনার তলদেশে স্রোত, দমকা হাওয়া এবং দৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। যদিও আগে মনে করা হয়েছিলো সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধার কাজ শেষ করা যাবে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে শেষ হতে মধ্যরাত পর্যন্ত লাগতে পারে।
তিনি আরো জানান, উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা প্রথমে লঞ্চটি থেকে মালামাল সরিয়ে কিছুটা হালকা করবে। এতে উদ্ধার কাজ অনেকটা সহজ হবে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ লঞ্চটিকে টেনে মেঘনা তীরে কাছাকাছি নিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্বদানকারী ফিরোজ আহমেদ এর আগে বাংলানিউজকে জানিয়েছিলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ধীরে ধীরে তীরের দিকে টেনে আনা হচ্ছে। লঞ্চটির ওজন প্রায় ১২৭ টন। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের ধারণ ক্ষমতা ২৫০ টন।
তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, একঘণ্টার মধ্যে লঞ্চটিকে তীরে নিয়ে পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে। পুরোদমে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করতে সবাই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান শাসছুদ্দোহা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, লঞ্চটি তীরে নিয়ে আসা হলে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদি ভেতরে কোনো লাশ থাকে সেগুলোকে অক্ষত অবস্থায় স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে খুব ধীর ধীরে টেনে আনা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, লঞ্চটি একবারেই উল্টে রয়েছে। নিচের দিকের অংশটি এখন দৃশ্যমান হয়েছে।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সবশেষ একটি লাশ ভেসে উঠেছে। এনিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এরমধ্যে ২৬ জনের লাশ শনাক্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দু’জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে ও অপর একজনের লাশ উদ্ধার করে মেঘনা পাড়ে রাখা হয়েছে।
লাশের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক।
জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জামাল শিকদার (৫০) ও তার ছেলে আবির (১১), সেতারা বেগম (৫৫), টুম্পা বেগম (২৬), শিশু মাহি, শিশু সুমনা, জলিল মালত (৫০), মানিক (১৪), আব্দুল্লাহ আল রেদওয়ান (৪০), রাফিয়া বেগম (৬০), খোরশেদ আলম খোন্দকার (৭৫), ওসমান গণি মোল্লা (৭০), ইসমাইল ফকির (৬০), কৃষ্ণ কমল দাস ৫০, আব্দুল জলিল (৫৫), তাসলিমা আক্তার রিয়া (২৫), রাশিদা বেগম (৫৬), লাইলী বেগম (৫৫), ঋতু (২৪), আব্দুল মান্নান দেওয়ান (৬৫), লক্ষ্মী দাস (৮৫), রজিয়া (৩২), শিশু রুমান, আব্দুল জলিল খান (৭০), মিন্টু সুখানী (৪০), মাসুম (৩৮), রিমা আক্তারসহ (৩২) ২৯ জন।
এদের সবারই বাড়ি শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায়। তবে অধিকাংশই ওই জেলার নড়িয়া থানার বাসিন্দা।
নিহত টুম্পার স্বামী লিটনও ওই লঞ্চে ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার ৮ বছরের মেয়ে সুমনা ও ৬ বছরের ছেলে মাহিম এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ডুবন্ত লঞ্চের দুই মাথায় ক্রেনের সাহায্যে রশি বেঁধে বাধা হয়। পরে টেনে তোলার চেষ্টা করার একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একপাশের রশি ছিড়ে লঞ্চটি আবার সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।
এর ফলে লঞ্চ উদ্ধার চেষ্টা বন্ধ রয়েছে। পুনরায় লঞ্চের গায়ে ক্রেনের সাহায্যে রশি বাঁধতে দু’তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা।
তবে একাধিক উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ডুবন্ত লঞ্চে আটকা পড়া লাশ ও মালামালের কারণে লঞ্চের জানালা-দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই টেনে তুলতে সমস্যা হচ্ছে।
এ লঞ্চটি এর আগেও ২বার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বলে জানা গেছে।

শেয়ার