বাঘারপাড়ায় লতি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল॥ ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষি বিজ্ঞানীদের সন্তোষ প্রকাশ

kocu loti
সীমাখালী প্রতিনিধি॥ বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে লতিরাজ কচুর চাষ হয়ে আসছে। তুলনামূলক এ বছর উপজেলার বন্দবিলা, কটুরাকান্দি, রামপুর, নিমটা, সাদিপুর, রাঘবপুর ও গাইদঘাট অঞ্চলে কয়েক হাজার বিঘা জমিতে লতি কচুর চাষ বেশী হয়েছে। ধান ও অন্যান্য সবজি চাষ থেকে এ বছর লতি কচুর চাষে কৃষক বেশী লাভবান হচ্ছে। কচুর লতির দাম তুলনামূলক বেশী হওয়ায় কৃষকের ভাগ্যবদলও হচ্ছে। পাইকারী হিসাবে ১ মন লতি হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় সারা বছরই বিক্রি হচ্ছে। ৩৩ শতাংশের ১বিঘা জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ মন লতি কৃষকেরা বিক্রি করতে পারে। সারা বছরই লতি কচুর চাষ হয়ে থাকে। তবে ৬/৭ মাস লতি বিক্রির পর সর্বশেষ ক্ষেতের পুরো কচু গাছ তুলে ট্রাক ভর্ত্তি করে উৎকৃষ্ট মানের সবজি হিসাবে বিক্রি করে থাকে। এ সব কচু ঢাকা,বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।
চলতি বছর বাঘারপাড়ার বন্দবিলা,নিমটা,রামপুর,কটুরাকান্দি,সাদিপুর,রাঘবপুর ও গাইদঘাট গ্রামের প্রায় ১ হাজার কৃষকের কচুর লতি, বেগুন ,মিষ্টি কুমড়া,লাউ, ক্ষিরা ও পটলের ক্ষেতে আই পিএম পদ্ধতিতে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ৬ হাজার থেরোমন ট্রাপ বসানো হয়। এই থেরোমন ট্রাপে হাজার হাজার পোকার মৃত্যু দেখে কৃষকেরা হত বিহব্বল হয়েছেন। নিমটা গ্রামের কচুর চাষি সুধীর প্রামানিক বলেন ‘এ বছরই আমরা এই কচুর জন্য নতুন ফেরোমন দেখলাম। প্রতি দুই দিন অন্তর প্রতি বোয়েমে প্রায় ৭০/৮০টি পোকা মরতে দেখেছি। তবে সব সময় বোয়েমে পানি থাকতে হবে। আমরা প্রতি বোয়েম থেকে ৬/৭ দিন অন্তর প্রায় দেড় শতাধিক পোকা ফেলেছি। এতে আমরা খুবই উপকার পাচ্ছি’’। ইউ এস এ আই ডি ,এ ভি আর ডি সি, সি আই পি-বারি হর্টিকালচার প্রকল্পের অর্থায়নে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্র ও গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রের সার্বিক তত্বাবধানে বিগত কয়েক বছর এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের ক্ষেতে বিষের বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে ফেরোমন ট্রাপের মাধ্যমে পোকা দমনের ব্যবস্থা চলে আসছে। এ অঞ্চলের কৃষকেরা এতে খুবই উপকৃত হচ্ছে।
গত ১০ মে তাইওয়ানের বিজ্ঞানী কীটতত্ত্ববিদ আরশ্রীনিভাষন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউটের কীটতত্ববিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ সৈয়দ নুরুল আলম, উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নির্মল কুমার দত্ত, উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইসহাকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহামুদুন্নবী, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জিএম মোরশেদুল বারী (ডলার),সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল গফুরসহ বেশ কয়েকজন এ অঞ্চলের কৃষকের মাঠের কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন। বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ পরিদর্শন করে তাইওয়ানের বিজ্ঞানী আরশ্রীনিভাষন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সন্তোষ প্রকাশ করে আগামী মৌসুমেও এ অঞ্চলের গাইদঘাট ও খানপুর গ্রামের প্রায় ২০০ বিঘা সবজি ক্ষেতে ফেরোমন ট্রাপ বসানোর সিন্ধান্ত নেন। কৃষকের ব্যাপক উপকার সাধিত হওয়ায় আগামীতেও এ প্রকল্প অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তাগণ আশা প্রকাশ ব্যক্ত করেছেন।

শেয়ার