নড়াইলে আনন্দ স্কুলের শির্ক্ষাথীরা বঞ্চিত বা ঝরেপড়া হলেও শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছে তাদের প্রবল

lohagara
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ কখনো কখনো ওরা টোকাই হিসাবেই পরিচিত। ওরা দরিদ্র, ওরা ঝরে পড়া । ওরা বঞ্চিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন থেকে । ওরা পরের বাড়িতে, দোকানে, হোটেলে, মাছের বাজারে কাজ করে প্রাপ্ত অর্থ বাবা-মাকে দিয়ে সংসার চালাতে সহযোগিতা করে। বঞ্চিত বা ঝরে পড়া হলেও শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছে তাদের প্রবল। তারা শিখতে চায়। পড়াশোনা করে সচেতন হতে চায় । আর তাই আল্লাদি, মর্জিনা, সুরুজের মত প্রায় ৩৫ জন শিশু প্রতিদিনই প্রচন্ড রোদ্দুর উপেক্ষা করে বাড়ির কাজের ফাঁকে নিয়মিত পড়তে আসে ম্যাডামের কাছে ।
ওরা এখন আনন্দ স্কুলের(রস্ক) শির্ক্ষাথী । আল্লাদি, মর্জিনা, সুরুজদের স্কুলের নাম ব্যাপারীপাড়া আনন্দ স্কুল । স্কুলের অবস্থান নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদরের মাত্র ৫শত গজ দূরে গোপিনাথপুর গ্রামে । এ ধরনের স্কুল উপজেলায় আরো রয়েছে । ওই স্কুলের ম্যাডাম( একমাত্র শিক্ষক) রাজিয়া সুলতানা বলেন, এ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সারা বছরই বই, খাতা, কলম ফ্রি দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে । এমনকি শিক্ষার্থীরা মাসে ৮০ টাকা করে সম্মানিও পায় । ওরা অতি দরিদ্র হলেও পড়াশোনা শেখার আগ্রহ রয়েছে অনেক। সবাই নিয়মিত স্কুলে আসে । তবে, সরকারি স্কুলের মতো আবাসন সুবিধা নেই। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মর্জিনা ও সুরুজ বলেন, আমরা পড়তে চাই । কিন্তু অনেক গরমে টিনের ঘরে সমস্যা হয়। তাদের সমস্যার কথা শুনে বৃহস্পতিবার(১৫ মে) ওই স্কুলে ছুঁটে যান একজন শিক্ষানুরাগী ও দেশ ফোকাস ডট কমের চেয়ারম্যান অবসর প্রাপ্ত মেজর কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স । তিনি শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে একটি টেবিল ফ্যান প্রদান করেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন । টেবিল ফ্যান পেয়ে এখন শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বণ্যা বইছে। ৮ থেকে ১৪ বছরের ঝরেপড়া শিশুরাই এখানে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প ফেইজ-২ এর আওতায় আনন্দ স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে ।

শেয়ার