“দু’একজন খারাপ হলে পুরো পেশার সবাই কি খারাপ হয়ে যাবে?”

7mader
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সাক্ষীরা যেন নির্বিঘেœ সাক্ষ্য দিতে পারেন-সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সরকারি তদন্ত কমিটি, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সাত বিবাদীর পাঠানো অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের পর বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন।

আদালত বলেন , র‌্যাব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী, সরকারের ভাবর্মূর্তির স্বার্থে সেখানে র‌্যাব না থাকলে ক্ষতি কি? এ মুহূর্তে ঐ এলাকায় র‌্যাবের প্রয়োজন আছে কি? কারণ, না থাকলে মানুষ একটু নির্ভয়ে সাক্ষ্য দেবে।

আদালত আরো বলেন, এ ব্যাপারে আমরা আদেশ দিতে পারি, তবে না দিলেই ভালো হয়। আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বিষয়টি প্রশাসনকে জানাবেন।

আদালত এ পর্যায়ে বলেন, র‌্যাবের দু’একজন খারাপ হয়ে গেলে গোটা বাহিনী কি খারাপ হয়ে যাবে? বিচার বিভাগের দু’একজন বা সাংবাদিকদের দু’একজন খারাপ হলে পুরো পেশার সবাই কি খারাপ হয়ে যাবে? বিষয়টি তা নয়। এ জন্য আমরা আদেশ দেয়ার সময় শব্দচয়নে সচেতন ছিলাম।

পরে আদালত তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪ জুন সময় নির্ধারণ করে দেন। এর আগে র‌্যাবের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হাইকোর্ট এর অপর বেঞ্চের গ্রেফতারের আদেশ অবহিত করেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। তখন আদালত বলেন, আমরা অবহিত হলাম।

গত ১১ মে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার র‌্যাবের সাবেক তিন সদস্যকে গ্রেফতারের আদেশ দেন।

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গত ৫ মে অপহরণ, গুম, হত্যার ঘটনায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাফিলতি আছে কিনা এবং র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করতে এ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। র‌্যাবের সহযোগিতায় সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ৬ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর হাইকোর্টের এ নির্দেশ আসে।

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে।

গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরো ৭ জনকে।

শেয়ার