চিতলমারীতে ব্র্যাককর্মীসহ দু’জন অপহরণ॥ অশ্লীল ছবি ধারণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ দাবি ॥ উদ্ধারসহ আটক ১

opohoron
বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের চিতলমারীতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে এক ব্র্যাককর্মীসহ দুজনকে অপহরণের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে। এ সময় পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছে অপহরণকারীদলের এক সদস্য। পুলিশ জব্দ করেছে একটি অশ্লীল ভিডিও চিত্র ও একটি মোটরসাইকেল। কিন্তু চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ কতদুর এগুতে পারবে তাও নিয়েও ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ চক্রের গডফাদার একজন প্রভাবশালী। তার রয়েছে উপরিমহলের সাথে দহরমহরম সম্পর্ক। ক্ষমতাসীনদলের ছত্রছায়ায় থাকা এই প্রভাবশালী তাদের বাহিনী সদস্যদের দিয়ে অবৈধপন্থায় উপার্জন করে যাচ্ছেন কাড়ি-কাড়ি টাকা। তবে আশার কথাও বলছেন অনেকে। তাদের দাবি সরকার এসব গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেশজুড়ে শুরু করেছে নানা তৎপরতা। পুলিশ এখন অনেকাংশে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। এক্ষেত্রে পুলিশ আন্তরিক হলে চক্রের সদস্যরা পার পাবে না বল্ইে ধারণা সচেতনমহলের।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে চিতলমারী সদরবাজারের উপজেলা মোড় এলাকা থেকে ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিদর্শক সেলিম মোল¬া ও জামাল হায়দার নামে দু’জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে অপহরণদলের সদস্যরা। তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দেখিয়ে তারা পরিবারের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা ওই দু’ব্যক্তির সাথে বাহিনীর এক নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ও স্টিল ছবি তুলে রাখে। মুক্তি পণের টাকা না দিলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে অপহৃতদের পরিবারের সাথে তাদের চলে দর কষাকষি। অপহৃতরা মোবাইলে বাঁচার আকুতি জানালে পরিবারের লোকজন মুক্তি পণের টাকা নিয়ে বিকাশ করতে যায়। কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে বাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি স্থানে যেতে বলে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাদের সঙ্গে যায় এবং কৌশলে অক্ষত অবস্থায় অপহৃতদের উদ্ধারসহ একজন অপহরণকারীকে পাকড়াও করে। জব্দ করে ভিডিও চিত্র ও দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়া চক্রের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল। ধৃত বারাশিয়া গ্রামের কামরুল মোল¬ার ছেলে স্বাধীন মোল¬া (৩০)। কিন্তু বিভিন্ন মহল বলছেন ঘটনার গডফাদার ক্ষমতাসীন এক নেতার নিকটজন। সেকারণে তারও রয়েছে দোদর্ণ্ড প্রভাব। চিতলমারী উপজেলা ব্র্যাকের ম্যানেজার শামিমা নাসরিন জানান, ঘটনার পর থেকে তার কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্তসহ দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তবে বিভিন্ন মহল থেকে চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না নেয়ার ব্যাপারে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চিতলমারী থানার ওসি দিলীপ কুমার সরকার জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার