কালীগঞ্জে বিএনপি নেতা হত্যার ৩ দিনেও কোন গ্রেফতার নেই ॥ কর্মসূচি প্রত্যাহারে দলের ভেতর বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ

mamla
নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর সভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইসমাইল হোসেন হত্যার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যার ঘটনার নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদি হয়ে বুধবার দিবাগত রাতে কালীগঞ্জ থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১০। তারিখঃ ১৪/০৫/২০১৪ ইং। মামলার আসামিরা হচ্ছে চাপালী গ্রামের লুৎফর রহমানের ৩ ছেলে শাহাজান আলী, আজিজার রহমান, আতিয়ার রহমান ও একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে আব্বাস আলীসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন। হত্যাকা-ের পর পরই আসামিরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদিকে এই হত্যাকান্ডের পর বিএনপি তাদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করায় দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী সহকর্মীর জানাযায় অংশ নিয়ে তার বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনা করে আগামী বুধবার স্থানীয় নিমতলা এলাকায় শোকসভার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়. বিএনপি নেতা ইসমাইল হত্যার মূল আসামি শাহাজান শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী। ৭ বছর আগে হেরোইনসহ শাহাজান ঝিনাইদহে আটক হয়ে জেলে যায়। ওই মালমায় তার ১৭ বছরের জেল হয়। সেই সময় শাহজাহানের পিতা লুৎফর রহমানের অনুরোধে ইসমাইল হোসেন পকেটের টাকায় তাকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের করে আনেন। সেই শাহাজানই ইসমাইলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রমাণ করলো তার চেয়ে বেইমান বিশ্বাসঘাতক দ্বিতীয়টি খুজে পাওয়া কঠিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, একটি ধারালো দেশী অস্ত্র দিয়ে মামলার প্রধান আসামি শাহাজান ইসমাইল হোসেনকে রাস্তার উপর ফেলে প্রথমে পায়ে কোপ মারে। এরপর তিনি পড়ে গেলে আবারো উপযুপরীভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে শাহাজান ও তার সহযোগীরা। ইসমাইল হোসেন করজোড়ে যেকোন কিছুর বিনিময়ে প্রাণ ভিক্ষা চান কিন্তু বেইমান শাহাজানসহ অন্যান্যরা শোনেনি। কি চাও, কত টাকা দেব কিন্তু দোহায় মেরো না আমাকে মৃত্যুর আগে এসব কথাই বলেছিলেন জনপ্রিয় নেতা ইসমাইল হোসেন। তার এই করুণ আকুতি তাদের মন গলাতে পারেনি। এলাকার কয়েকজন এগিয়ে আসতে উদ্যত হলে তাদের দিকে দা উঁচু করে শাহাজান ভয় দেখিয়ে বলে যে শ্যালা আসবে তাকেই কুপিয়ে মারবো। তার এই হুংকারে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই ইমরাম আলম জানান, হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটির সন্ধ্যান মিলেছে। যেকোন মুহুর্তে তা উদ্ধার ও খুনিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এদিকে বিএনপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়ায় দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক নেতা কর্মী মন্তব্য করেছেন ইসমাইল হত্যাকান্ড নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে ইসমাইল হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল বৃহস্পতিবার বিকেলে থানা রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। মিলাদ মাহফিলে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব এম শহীদুজ্জামান বেল্টু, সাধারণ সম্পাদক আইনাল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ নুরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা তবিবুর রহমান মিনি, আতিয়ার রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম উল্ফা, রবিউল ইসলাম নবী, যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস রহমান মিঠুসহ ইউনিয়ন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিল পূর্বে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টু নিহত ইসমাইলের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন। মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠান থেকে আগামী বুধবার বিকেলে শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইল হত্যার ঘটনায় শোকসভা করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার