উন্নয়ন বঞ্চিত এক জনপদের নাম কালিগঞ্জের হরিশপুর ॥ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে জনপ্রতিনিধিদের কপালে জুটলেও জুটতে পারে জনবিস্ফোরণের বারুদ

Kaliganj
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের নাম হরিশপুর। এ গ্রামের উন্নয়ন বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ সীমাহীন কষ্টে জীবন যাপন করছেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই গ্রামে। দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভুতপুর্ব উন্নয়ন হলেও এখানে লাগেনি তার নুন্যতম ছোঁয়া। দারিদ্রতা এ গ্রামের মানুষের চির সাথী হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিলেও তার একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি। ভোটের পর ফস করে না অনেকটা সেরম অবস্থা ! ক্ষোভে দু:খে অনেকেই রাগ সামলাতে না পেরে প্রশ্ন তুলেছেন নেতারা লজ্জাহীন নাকি তাদের লজ্জা থাকতে নেই ? এবার ভোট আসুক দেখাবো মজা এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে।
হরিশপুর গ্রামের শিক্ষক আলাউদ্দীন, রমজান আলি কারিকর, বেল্লাল হোসেন, শাহীনুর ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, জমিদার বাবু সাদগারের আমলে সীমান্ত নদী ইছামতির পূর্বাংশে পলি পড়ে বাগান সৃষ্টি হয়। এ সময় জমিদার বাবু সাদগার তার অধীনস্থ ওই জায়গাটি প্রজাস্বত্ব বিলি করে ৭০ একর জমিতে প্রজাদের বসবাসের উপযোগী করে তোলেন। এছাড়াও তিনি যাতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তা, গোসলের জন্য পুকুর ও খাবার পানির জন্য আলাদা আরো একটি পুকুরসহ গ্রামের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করে ছিলেন। ১৮১০ সাল থেকে অদ্যাবধি এই গ্রামের উন্নয়নে কোন প্রকার কাজ করা হয়নি। গ্রামে পৌছেনি পর্যন্ত বিদ্যুতের আলো। খাবার পানির জন্য কোন নলকুপ বসানো হয়নি। এছাড়াও গ্রামের কাঁচা রাস্তা (৬৫০ মিটার) সংস্কারের অভাবে হাজার হাজার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের প্রায় পুরো সময় জুড়ে রাস্তাটি জল-কাদায় একাকার থাকে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা চললেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবি ও ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা নেয়া করে থাকে। তারা আরো জানান, সমস্য সমাধানের জন্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুম. তাই এই মুহূর্তে যদি গ্রামের প্রধান সড়ক পাকাকরণ ও অন্যান্য রাস্তা সংস্কার না করা হয় তাহলে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়বে এলাকাবাসী। সচেতনমহলের অভিমত জনরোষানলে পড়ার আগে জনপ্রতিনিধিদের উচিত হবে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা। তা না হলে কপালে জুটলেও জুটতে পারে জনবিস্ফোরণের বারুদ। যে বারুদে পুড়ে ছারখার হয়ে যেতে পারে অতি পরিশ্রমে গড়ে তোলা সামাজ্র।

শেয়ার