৫ হাজার বার প্রেম নিবেদন, তবুও…

prem
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তাকে সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ‘দুর্ভাগা’ মানুষ বলা যাবে। একটা মানুষ অবিরত প্রেম নিবেদন করে যাচ্ছে কিন্তু কেউ একটু ফিরেও তাকাচ্ছে না, তাকে এছাড়া আর কী বলা যায়! তাও দু’বার দশবার নয় পাঁচ হাজার বার। আর প্রতিবারই উত্তরটা না-বাচক।
এই দুর্ভাগার নাম প্রেদ্রাগ জোভানোভিক। তিনি সার্বিয়ার নাগরিক। বয়স ৩৫ বছর। এ ভরা যৌবনে একটা মেয়ে বন্ধু তো সবারই কাম্য। কিন্তু প্রেদ্রাগ ফেসবুকে কতো কাকুতি মিনতি করেছেন, কেউই সাড়া দেয়নি। এই দুর্ভাগ্যের কথা শুনা যাক তার কণ্ঠেই-
পাঁচ হাজার নিবেদনের মধ্যে মাত্র ১৫টি উত্তর পেয়েছিলাম যার সবক’টি নেতিবাচক। অবশ্য এরা খুবই ভদ্রতার সঙ্গে আমার গার্লফ্রেন্ড হওয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর বাকিরা কোনো উত্তরই দেয়নি। স্রেফ উপেক্ষা করেছে।
কিন্তু তিনি দমবার পাত্র নন। প্রেম খোঁজার এ অভিযান তিনি চালিয়ে যাবেন। এছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই তার। তিনি বলেন, ‘আজকাল মেয়েদের মুখোমুখি দেখা পাওয়া তো দুষ্কর। যারা বার বা ক্লাবে যায় তাদের নিঃসন্দেহে একটা সম্পর্ক আছে। আর ভাগ্রক্রমে যদি রাস্তায় কারো দেখা পেয়ে যান তারা কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে না। আপনি যদি যেচে সঙ্গে কথা বলতে যান তাহলে উল্টো আপনার গায়ে ‘আধপাগল’ তকমা লাগিয়ে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আর এ কারণেই ফেসবুক আমার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা মনে হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।’
প্রেদ্রাগ রাজধানী বেলগ্রেডের একটি ছোট্ট গ্রামে থাকেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা মেয়েও সিঙ্গেল নেই। সবাই হয় বিবাহিতা এবং দাদী-নানী।’
প্রেদ্রাগ একটু লাজুক প্রকৃতির। মেয়েদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে সঙ্কোচ বোধ করেন। তাই প্রাথমিকভাবে তিনি ফেসবুকে মেয়ে পটানোর চেষ্টা করছেন। তার একান্ত আকুতি- একটি বার সুযোগ দেয়া হোক। তারপর নাহয় অন্যভাবে ভাবা যাবে!
তিনি স্বীকার করেন, ফেসবুকে সবচেয়ে ব্যর্থ ও ফ্লপ প্রেমিক হিসেবে রেকর্ড গড়বার ঝুঁকিটা হয়ত তাকে নিতেই হচ্ছে। কিন্তু হৃদয়ের টানে এ ঝুঁকি তিনি মাথা পেতে নিতে রাজি। তার দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন সফল হবেনই। মেয়েদের মন এমনিতেই পায়রার পালকের মতো নরম। কোনো
এক দরদিয়া নিশ্চয়ই তার নিবেদনে সাড়া দেবে।

শেয়ার