‘সাকুরা’ মিস করবেন প্রধানমন্ত্রী!

sakura
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব প্রিয় ফুল ‘সাকুরা’ (জাপানি চেরি)। ভীষণ ভালবাসেন এই ফুল। আর সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রটোকল অনুবিভাগের চিন্তা থাকে এই ফুলটি যেনো তিনি দেখতে পান।

কিন্তু এবারের সফরটিতে সেই সাকুরাই মিস করবেন প্রধানমন্ত্রী। সাকুরার হিসেবে তার জাপান সফর একটু দেরিতেই পড়ে গেলো।

আগামী ২৫ থেকে ২৮ মে চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওদিকে টোকিও এবং তার পাশের অঞ্চলে চেরির (সাকুরা) মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। জাপানের দক্ষিণে জানুয়ারির প্রথম দিকে ফুটতে শুরু করে চেরি ফুল। উত্তরে শুরু হয় মে মাসের শেষ দিকে।

কিন্তু টোকিওসহ মধ্য জাপানে প্রধান প্রধান শহরে এপ্রিলে চেরি তার রং রূপ ছড়িয়ে টিকে থাকে মাত্র একটি সপ্তাহ। দেখতে দেখতে মিলিয়ে যায় সেই সময়। বলা যায় একটি মাসের জন্যই সেই প্রিয় ফুল মিস করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি সফরে গিয়েও ফুল, পাখি, নদীর কুল দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রটোকল ভেঙ্গে এগিয়ে যান, তা তার সফরসঙ্গী যারা হয়েছেন তারা সবাই জানেন। জাপানেও হয়তো তেমন কিছু হতে পারতো। কিন্তু ফুলই যদি না থাকে… প্রটোকল ভেঙ্গে কি দেখবেন!

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসার ফুল দেখাতে জাপানিরা কোনো উদ্যোগ নিলেই তা হয়তো সম্ভব হতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্রন্ত্রী ফুমিও কিশিদার মার্চ মাসে ঢাকা সফর করেন। সে-সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাপান সফরের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনো আবের পাঠানো একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। জাপান সরকারের আমন্ত্রণেই এ সফর হচ্ছে।

সফর নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি আরো মজবুত করতেই প্রধানমন্ত্রী এ সফরে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্রিয়ার আলম বৃহস্পতিবার বাংলানিউজকে বলেন, জাপান আমাদের পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী।

প্রথম পদ্মাসেতু আমরা নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করব বলে আগে সিদ্ধান্ত হয়ে রয়েছে। তাই দ্বিতীয় পদ্মাসেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফরে আলোচনা হবে বলে আশা করি, বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

যমুনা নদীর ওপর আর একটি রেলসেতু নির্মাণের বিষয়েও জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হবে, জানান তিনি।

শেখ হাসিনা জাপান যাবেন আর চেরি ফুলের সমাহার দেখা হবে না, এজন্য কিছুটা আক্ষেপ থাকবে হয়ত। কিন্তু দেশের জন্য জাপানের সঙ্গে এমন কিছু আনবেন যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দেরই হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি) নামের একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে এ চুক্তি সই হতে পারে।

শেয়ার