শ্যামনগরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ডাকাতি মামলায় জেলে ॥ প্রশাসনসহ মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা

human rights
সরদার সিদ্দিক, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ উপজেলার আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র সুজন। সুন্দরবন দেখার নাম করে তাকে নিয়ে গিয়েছিল একই এলাকার সবুজ নামে এক যুবক। সবুজকে সুন্দরবন ভ্রমনের নাম প্রলোভন দেখিয়েছিল প্রতিবেশী বনদস্যু ইউনুচ। এখন তারা দু’জনেই ডাকাতি মামলার আসামি হয়ে জেলের ঘানি টানছে। এরফলে পরিবার দুটি পড়েছে বিপাকে। স্কুল পড়ুয়া ছেলে ডাকাতি মামলায় জেলের ঘানি টানতে শুরু করেছে। এখন কেউ-ই জানে না তাদের আর লেখাপড়া করা হবে কিনা। তাদের সম্ভাবনাময় জীবনে নেমে এসেছে আমাবশ্যার ঘন অন্ধকার। এ ব্যাপারে পরিবার দুটির পাশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা যায় উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের রেজাউল করিমের পুত্র ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সুজন ও কাটুনিয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র আব্দুস সবুর সবুজকে তাদের প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে ইউনুচ আলী সরদার গত ১৬ এপ্রিল সুন্দরবন দেখানোর নাম করে নিয়ে যায়। সুন্দরবনে যেয়ে সুজন ও সবুজ দেখতে পায় প্রতিবেশী ইউনুচ আলী বনদস্যু দলের সদস্য। এ সময় দুজনেই ভয়ে বাড়ী ফেরার কথা জানায় কিন্তু ইউনুচসহ অন্য ডাকাতরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় ও ডাকাতি পেশার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বনদস্যুদের অনুপস্থিতির সুযোগে সবুজ ও সুজন কেীশলে পালিয়ে মাছ ধরা ট্রলারে উঠে গভীর রাতে উপজেলার কৈখালী সীমান্তে জয়া খালী গ্রামের নদীর চরে এসে নেমে পড়ে। এ সময় তারা পায়ে হেঁটে জয়া খালীর গ্রামের জনৈক নুর আলী গাজীর বাড়ীতে আশ্রয় নিতে চাই। তারা পুরো ঘটনা খুলে বলার পর নুর অলী এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের দু’জনকেই বেদম মারপিঠ করে রক্তাক্ত জখম করে পুলিশে দেয়। নুর আলী বাদী হয়ে সবুজ ও সুজনের নামে শ্যামনগর থানায় মামলাও দায়ের করে। যার নং-২৭/১১৯। তাং-১৯/৪/১৪ইং। তাদের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ ডাকাতির বিষয়ে কোন তথ্য পায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের পরিবারের। আশালতা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুর্য্যকান্ত মন্ডল জানান সুজন তার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। সে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারে। কারণ ডাকাত হতে গেলে প্রাপ্ত বয়সেরও প্রয়োজন হয়। সুজন এখন বাচ্চা ছেলে। তারপক্ষে ডাকাতি করা সম্ভব না। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও এলাকার সচেতনমহল এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতনমহল ও এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যত্থায় তাদের শিক্ষা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা সবার।

শেয়ার