যশোরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ছাত্র শিবিরের শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ ॥ অস্ত্র গুলি ও বোমা উদ্ধার

shibir
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মঙ্গলবার রাতে যশোরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ছাত্র শিবিরের শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং অপর এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় ওই সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমার স্লিন্টারে দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অপরজন হলো, খড়কী কলাবাগান এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আবুল কাশেম। আহত পুলিশ সদস্যরা হলো, কনস্টেবল দেব প্রসাদ ও সেলিম।
যশোর ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়ের জানান, তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে যশোর-চৌগাছা রোডের দোগাছিয়া গ্রামের একটি ইটভাটার সামনে অবস্থান করেন। এ সময় চৌগাছার দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে দু’জন লোক আসে। সন্দেহ মূলকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থামতে সংকেত দেয়া হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের পিছু ধাওয়া করে ছাত্র শিবিরের শহর শাখার সভাপতি জাহিদুলকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। অপরজন পালিয়ে যায়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পরের দিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য শ্যামনগর গ্রামের মহাসিনের বাড়িতে যায়। এ সময় মহাসিনের ছেলে মেহেদী হাসান পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়। জাহিদুলকে এরপর মেহেদী হাসানের পারিবারিক কবরস্থানের পাশে একটি বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানো মাত্র জাহিদুলের সহযোগী ৪/৫ জন সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সুযোগে জাহিদুল দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ এ সময় ৫/৬ রাউন্ড সর্টগানের গুলি করে। ওই গুলি জাহিদুল ইসলামের ডান পায়ে লেগে মাটিতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানস্যুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দু’টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমার স্লিন্টারে পুলিশ কনস্টেবল দেব প্রসাদ ও সেলিম আহত হয়। আহত সকলকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেছে। মামলায় যশোর শাখা শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনকে আসামি করা হয়েছে। জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার মোবারক পাড়া গ্রামের আবুল খায়ের মন্ডলের ছেলে।
অপর দিকে একই দিন রাতে কোতোয়ালি থানার এসআই সোয়েব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শহরের চোরমারা দীঘিরপাড় এলাকায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই বোমার স্লিন্টারে পুলিশ কনস্টেবল এখলাছ হোসেন আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪/৫ রাউন্ড সর্টগানের গুলি করে। ওই গুলিতে কাশেম নামে এক সন্ত্রাসীর ডান পায়ে লেগে মাটিতে পড়ে যায়। তবে তার সহযোগিরা পালিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানস্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও চারটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বোমা বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেছে। মামলায় আটক কাশেমসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে রতন, ড্যাপ পকেটমারের ছেলে শুকুর আলী, ফারুক পকেটমারের ছেলে কুদরত আলী ও শংকরপুরের ফারুক হোসেনের ছেলে নয়ন।

শেয়ার