ভিয়েতনামে চীনবিরোধী দাঙ্গায় নিহত ২১

vetnam
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভিয়েতনামে ছড়িয়ে পড়া চীনবিরোধী বিক্ষোভ-হামলায় অন্ততপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভের মধ্যেই তাইওয়ানি মালিকানাধীন ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় স্টিল কারখানায় রাতভর হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাকারীরা।
বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় অঞ্চল হা টিনথ্ প্রদেশের এক হাসপাতালের চিকিৎসক ২১ জনের মৃত্যু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন ভিয়েতনামি ও ১৬ জনকে চীনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে এক সংক্ষিপ্ত সীমান্ত যুদ্ধের পর এটাই চীন-ভিয়েতনাম সম্পর্কের সবচেয়ে মারাত্মক অবনতি।
মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিল্প এলাকায় চীনা মালিকানাধীন কয়েকটি কারাখানায় আগুন লাগিয়ে লুটপাট করার পর কেন্দ্রীয় অঞ্চলেও চীনাবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের সঙ্গে মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ একটি এলাকায় চীনের একটি তেলের রিগ বসানোকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
ক্ষুব্ধ ভিয়েতনামিরা বিভিন্ন কারখানায় আগুন দেয়ার পাশাপাশি ভাঙচুরও চালিয়েছে।
হা টিনথ্ জেনারেল হাসপাতালের ওই ডাক্তার বলেছেন, “গত (বুধবার) রাতে হাসপাতালে প্রায় একশ’ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের অনেকেই চীনা। সকালে আরো কয়েকজনকে নিয়ে আসা হয়েছে।”
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় চীনের কয়েকশ’ নাগরিক আকাশপথে বা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার ভিতর দিয়ে চীনে পালিয়ে গেছে।
তাইওয়ানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দাঙ্গাকারীরা হা টিনথ্ প্রদেশে একটি বিশাল স্টিল প্লান্টে হামলা চালিয়েছে। ফরমোজা প্লাস্টিক গ্রুপের এ প্লান্টটি ভিয়েতনামে তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকৃত প্রকল্প।
২০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা। তখন এটি হবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্টিল কারখানা।
এই কারখানার অধীনে একটি সমুদ্র বন্দর ও ২১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ প্লান্টও থাকবে।
তাইওয়ানি প্রকল্পকে চীনা বিবেচনা করে হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের কেউ এর মালিক মনে করেও ভুল করে হামলা হতে পারে বলে কারো কারো ধারণা।
মঙ্গলবার বিনহ ডুয়ঙ এবং ডঙ নাই প্রদেশের শিল্পাঞ্চলে চীনা মালিকানাধীন কারাখানাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল কয়েক হাজার ভিয়েতনামি।

শেয়ার