না.গঞ্জে ৭ খুন: তদন্তের অগ্রগতি জানাতে ৪ জুন পর্যন্ত সময়

Narayangang
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির এক সপ্তাহের কাজের বিবরণ জেনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে ৪ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি তদন্ত শেষ করতে এক মাস সময় চেয়ে বুধবার তাদের কাজের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে দেয়া ওই প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চে উপস্থাপন করা করা হয়।
আদালতে নিহত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল এবং এই সংক্রান্ত অন্য একটি রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বক্তব্য দেন।
গত ৩০ এপ্রিল আইনজীবী চন্দন ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ অপহৃত সাতজনের লাশ উদ্ধারের পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে হাই কোর্টের এই বেঞ্চ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।
এরপর চন্দনের জামাতা বিজয়সহ তিনজন একটি রিট আবেদন করলে হাই কোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার এই বেঞ্চে সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশের শেষাংশ পড়ে শোনানো হয়,যেখানে ওই আবেদনটি এই আদালতে স্থানান্তরের কথা বলা আছে।
এই আদালতের বিচারক তখন বলেন, “ঠিক আছে, আমরা অবহিত হলাম।”
হাই কোর্টের ওই বেঞ্চের আদেশের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চাকরিচ্যুত ওই তিন সামরিক কর্মকর্তা এখনো গ্রেপ্তার হননি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলছে, বলে আসছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনার সুরে বলেছেন, ঘন ঘন রিট আবেদন হলে তাতে নির্বাহী বিভাগের কাজ ব্যাহত হয়।
হাই কোর্টের আদেশে গঠিত সাত সদস্যের এই প্রশাসনিক কমিটি বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে দ্বিতীয় দিনের মতো গণশুনানি নেয়। শনিবার পুনরায় শুনানি নেবে তারা।
গত ৭ মে কমিটি গঠনের পর সদস্যরা নারায়ণগঞ্জে অপহরণ এবং লাশ উদ্ধারের স্থান দেখে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
কাউন্সিলর নজরুল ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ করা হয়েছিল, তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে।
এরপর র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ তুললে হাই কোর্ট ৫ মে এই কমিটি গঠনের আদেশ দেয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যের এই কমিটি হয়।
এই কমিটি গণতদন্তের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করবে।
অপহৃত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলেছে আদালত।

শেয়ার