৭ খুন: তদন্ত কমিটি এক মাস সময় চায়

Dc office narayo
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি এক সপ্তাহের কাজের অগ্রগতির একটি প্রতিবেদন হাই কোর্টে দিলেও পুরো কাজ শেষ করতে এক মাস সময় চেয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে বুধবার দুপুরে জমা দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও ওই কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “হাই কোর্টের আদেশে আমাদের কমিটি গঠিত হয়েছিল। আমরা একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দিয়েছি। এটা পূর্ণাঙ্গ করতে আরো চার সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, সেটা আমরা চেয়েছি।”
গত ৭ মে গঠিত এই প্রশাসনিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ গিয়ে অপহরণের এবং লাশ উদ্ধারের স্থান পর্যবেক্ষণের পর নিহত সাতজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে।

এরপর এক দফায় গণশুনানিতে ছয়জনের বক্তব্য শুনেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবারও গণশুনানি নেবেন তারা।

বহুল আলোচিত এই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এই পর্যন্ত কাজের মূল্যায়ন জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, “এই পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।”

এই হত্যাকাণ্ডে র‌্যাব-১১ এ থাকা তিন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যাদের গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের আদেশও রয়েছে।

সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো ওই তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না- প্রশ্ন করা হলে তদন্ত কমিটির সদস্য মিজানুর বলেন, “প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই।”

তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন বুঝে নিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “আগামীকাল বিষয়টি কার‌্যতালিকায় (আদালতের) থাকবে। আশা করি, সেখানে দাখিল করতে পারব।”
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম মহিউদ্দিন বলেন, “আমরা এতদিন কী কী কাজ করলাম, তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।”

কাউন্সিলর নজরুল ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ করা হয়েছিল, তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে।
এরপর র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ তুললে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার তদন্তে ৫ মে দেয়া হাই কোর্টের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যের এই কমিটি হয়।
এই কমিটি গণতদন্তের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের অপহারণ ও হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করবে।
অপহৃত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলেছে আদালত।
কমিটি গঠনের পর ১১ মে হাই কোর্ট আরেক আদেশে তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। গ্রেপ্তারের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে জানালেও ৭২ ঘণ্টায়ও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

শেয়ার